সর্বশেষ

সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণের শীর্ষ দশ দেশের একটি বাংলাদেশ

  • 5:16 pm - November 03, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২৩৪৮ বার
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক শেষ পর্যন্ত নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মিশছে, যা বৈশ্বিক দূষণ সংকটকে আরও গভীর করছে। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৩ নভেম্বর- প্রায় দুই দশক আগে পলিথিন ব্যাগ নিষিদ্ধ করলেও প্লাস্টিক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে এখনো হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ। বাজারের ব্যাগ থেকে শুরু করে খাবারের মোড়ক বেশির ভাগ ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক শেষ পর্যন্ত নদী ও সমুদ্রে গিয়ে মিশছে, যা বৈশ্বিক দূষণ সংকটকে আরও গভীর করছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা গ্রিনম্যাচ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের প্লাস্টিক দূষণের সবচেয়ে বড় অংশই এশীয় দেশগুলো থেকে আসছে। তারা মোট সমুদ্রবর্জ্যের প্রায় ৮১ শতাংশ উৎপাদন করছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে আনুমানিক ২৫ হাজার টন প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রে গিয়ে পড়ছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফিলিপাইন (৩ লাখ ৬০ হাজার টন), ভারত (১ লাখ ৩০ হাজার টন), মালয়েশিয়া (৭৩ হাজার টন), চীন (৭১ হাজার টন), ইন্দোনেশিয়া (৫৬ হাজার টন), মিয়ানমার (৪০ হাজার টন), ব্রাজিল (৩৮ হাজার টন), ভিয়েতনাম (২৮ হাজার টন), বাংলাদেশ (২৫ হাজার টন) এবং থাইল্যান্ড (২৩ হাজার টন)।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে বিশ্বের সমুদ্রে ৭ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১৯ কোটি ৯০ লাখ টন পর্যন্ত প্লাস্টিক জমে আছে, যা সামুদ্রিক প্রাণী এবং মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পিএইচডি গবেষক শরীফ মুসতাজিব বলেন, বাংলাদেশের প্লাস্টিক দূষণের মূল কারণ দুর্বল তদারকি ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, “প্লাস্টিক বর্জ্য নানা উৎস থেকে সমুদ্রে পৌঁছে। সঠিক তথ্য নেই, সিটি করপোরেশনগুলোও প্লাস্টিককে সাধারণ বর্জ্য হিসেবেই দেখে। পরিবেশ অধিদপ্তর অনুমতি দেয়, কিন্তু উৎপাদন বা নিষ্পত্তি মনিটর করে না। এছাড়া চিপস প্যাকেট, বোতল বা পলিথিন পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করার প্রযুক্তিও আমাদের নেই।”

মাইক্রোপ্লাস্টিকের ঝুঁকি বাড়ছে

বিশ্বজুড়ে মানুষের খাদ্যতালিকায় থাকা মাছের প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা ক্যানসার, বন্ধ্যত্ব ও স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

গ্রিনম্যাচের প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন মানুষ বছরে গড়ে ২ লাখ ১১ হাজার পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক খেয়ে ফেলতে পারে। এমনকি এই ক্ষুদ্র কণাগুলো মানুষের ফুসফুস, হৃদপিণ্ড ও মস্তিষ্কেও পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এক কর্মশালায় সামুদ্রিক দূষণ বিষয়ে অধ্যাপক শাহনেওয়াজ চৌধুরী বলেন, “পরিত্যক্ত মাছ ধরার জাল বা ‘ঘোস্ট নেট’ সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণের বড় উৎস। এসব জাল সমুদ্রের তলায় ডুবে গিয়ে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয় এবং মাছের মাধ্যমে খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে, যার ফলে ক্যানসার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বন্ধ্যত্বের মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়।”

গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১৯ হাজার নৌকা ও ট্রলার প্রতি বছর ৪০ হাজার টন মাছ ধরার জাল ব্যবহার করে, যার প্রায় ৭ শতাংশ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।

অধ্যাপক শাহনেওয়াজ আরও বলেন, “মাছ, ঝিনুক, এমনকি কাছিমের পেটেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। জেলেরা প্রায়ই জাল ফেলে যায়, যা দূষণ বাড়ায়। পোশাক, প্রসাধনী ও গৃহস্থালি সামগ্রী থেকেও মাইক্রোপ্লাস্টিক সমুদ্রে পৌঁছে জীববৈচিত্র্যের জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।”

দুর্বল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দূষণের মূল কারণ

পরিবেশবিদদের মতে, সচেতনতা কিছুটা বাড়লেও বাস্তবায়নে দুর্বলতা রয়ে গেছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “আমাদের ভোগের মাত্রা বেশি, কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল। পলিথিন নিষিদ্ধ করা হলেও বাস্তবায়ন দুর্বল ছিল। এখন র‌্যাবকে যুক্ত করা হয়েছে যাতে প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও জানান, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপে সীমিতকরণসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
“ক্লাইমেট ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে,” বলেন তিনি।

তবে বাস্তবে দেশের সর্বত্রই পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য এখনো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও বাস্তবায়নের অভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তাদের মতে, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, উন্নত পুনঃপ্রক্রিয়াজাত প্রযুক্তি এবং জনসচেতনতা না বাড়ালে বাংলাদেশের প্লাস্টিক সংকট আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে, যা সামুদ্রিক প্রাণী ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য গভীর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

সুত্রঃ দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

এই শাখার আরও খবর

নির্বাসন শেষে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী মারিয়া মাচাদো

১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বারবার দেশে ফেরার…

বাংলাদেশে ৬৩৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চায় জাপান

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক লাখ কোটি জাপানি ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে জাপান। প্রস্তাবিত এ বিনিয়োগে গাড়ি উৎপাদন,…

গাজীপুরে এবার ১৩ বছরের ছাত্রীকে অপহরণ করলেন মাদ্রাসার শিক্ষক, উদ্ধার অভিযান চলছে

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : গাজীপুরে এবার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১৩) অপহরণের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকসহ পাঁচজনকে…

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে বোলসোনারোকে হারিয়ে আবার জয়ী লুলা

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বোলসোনারোকে হারিয়ে আবারও জয়ী হয়েছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুই ইনাসিও লুলা দা সিলভা। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী,…

মোটরসাইকেলে একই পরিবারের ৩ জন, পিকআপের ধাক্কায় প্রাণ গেলো মা-ছেলের

যশোরের মণিরামপুরে পিকআপের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজনের মধ্যে মা ও চার বছরের ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ওমর…

পিরোজপুরে মন্দিরের জমি দখল করলেন জামায়াত নেতা, এলাকায় আতঙ্ক

ওটিএন বাংলা ডেস্ক : পিরোজপুরের নেছারাবাদে কয়েক দশকের পুরোনো একটি মন্দিরের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলা…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au