পয়েন্ট কুক আসনের এমপি এবং আসন্ন ভিক্টোরিয়ান স্টেট নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী ম্যাথিউ হিলাকারি অংশগ্রহণকারীদের আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান। ছবি: সরবরাহকৃত
মেলবোর্ন, ১৭ মার্চ: অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিক কাঠামো ও আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের লক্ষ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটির একটি প্রতিনিধি দল আজ ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট হাউস পরিদর্শন করেছে। এই গাইডেড শিক্ষামূলক সফরের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, ঐতিহ্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে প্রত্যক্ষ ও গভীর ধারণা লাভের সুযোগ পান।
এই সফরে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানান পয়েন্ট কুক আসনের এমপি এবং আসন্ন ভিক্টোরিয়ান স্টেট নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী ম্যাথিউ হিলাকারি। তাঁর তত্ত্বাবধানে দলটি পার্লামেন্ট ভবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশ ঘুরে দেখে এবং অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করে।
ট্যুরের শুরু হয় রানী ভিক্টোরিয়ার নামে নামাঙ্কিত বিশাল গ্র্যান্ড হলে। সেখানে রানী ভিক্টোরিয়ার মূর্তির সামনে ছবি তোলার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীরা দেয়ালে টানানো সাবেক প্রিমিয়ারদের প্রতিকৃতি গভীর আগ্রহ নিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন। এই সময় ম্যাথিউ হিলাকারি পার্লামেন্টের ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন যা নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়।পরবর্তীতে প্রতিনিধি দলকে নিয়ে যাওয়া হয় আইনসভা কক্ষে (Legislative Chambers), যেখানে আইন প্রণয়ন ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা সংসদীয় কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন, এবং সংসদ অধিবেশন চলাকালীন সরাসরি সংসদে বসে পার্লামেন্ট মেম্বারদের বক্তব্য শোনার সৌভাগ্য অর্জন করেন।
বিশেষভাবে তারা পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক ‘চুরি হওয়া মেস’ (stolen mace)–সংক্রান্ত রহস্যজনক ঘটনার কথা জানতে পারেন, যা দীর্ঘদিন ধরে কৌতূহল ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে আছে। ওয়েস্টমিনস্টার ধাঁচের সংসদীয় ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা নিতে অংশগ্রহণকারীরা এমপিদের আসনে বসার সুযোগ পান, যা তাদের জন্য ছিল একটি ব্যতিক্রমী ও শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা। এতে করে সংসদ কীভাবে পরিচালিত হয়, সে বিষয়ে তাদের বাস্তব ধারণা তৈরি হয়।
“পার্লামেন্টের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এত বিস্তৃতভাবে জানার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। প্রথমবার এখানে আসার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ—আমি আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে এসেছি। কারণ আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছেও এই সংসদীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”-ডেটা অ্যানালিস্ট জীনাতুর রেজা খান
প্রতিনিধি দলটি পরে ঐতিহাসিক পার্লামেন্টারি লাইব্রেরি পরিদর্শন করেন, যা ১৯০১ থেকে ১৯২৭ সাল পর্যন্ত ফেডারেল পার্লামেন্টকে এই ভবনে বসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। সফরের শেষে ম্যাথিউ হিলাকারি প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর হাতে একটি করে স্মারক ফটোফ্রেম তুলে দেন।
সফর শেষে অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন। ডেটা অ্যানালিস্ট জীনাতুর রেজা খান বলেন, “পার্লামেন্টের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে এত বিস্তৃতভাবে জানার সুযোগ পেয়ে আমি সত্যিই আনন্দিত। প্রথমবার এখানে আসার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ—আমি আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে এসেছি। কারণ আমাদের নতুন প্রজন্মের কাছেও এই সংসদীয় ব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
ইতালি থেকে আগত এবং বর্তমানে রোমে বসবাসরত ‘প্রগতি ব্যবসায়ী সমিতি ইতালি’র সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন, যিনি পরিবারের সঙ্গে এই সফরে অংশ নেন, বলেন, “ভিক্টোরিয়া পার্লামেন্ট পরিদর্শন আমার জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এর মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ার সংসদীয় ইতিহাস এবং গণতন্ত্রের প্রতি তাদের দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকার সম্পর্কে জানার একটি মূল্যবান সুযোগ পেয়েছি।”
পুরো সফল আয়োজনটি দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন পিএইচডি গবেষক মিতা চৌধুরী। এই উদ্যোগ বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও নাগরিক অংশগ্রহণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।