জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…
মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেকেই অল্প সময়ের মধ্যেই জিনিস ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। নাম, ফোন নম্বর, কিংবা দৈনন্দিন কাজের তালিকা মনে না পড়া,এসব সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এই ভুলে যাওয়ার প্রবণতার মূল কারণ। তবে জাপানে প্রচলিত কিছু প্রাচীন পদ্ধতি ও জীবনধারার কৌশল নিয়মিত অনুশীলন করলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি উভয়ই উন্নত করা সম্ভব।
জাপানি স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে হলে শরীর ও মনকে একসঙ্গে প্রশিক্ষিত করতে হয়। এজন্য তারা কিছু সহজ অথচ কার্যকর পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো ‘শিনরিন-ইয়োকু’ বা বনস্নান। নিয়মিত প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটালে মানসিক চাপ কমে, মনোযোগ বাড়ে এবং মস্তিষ্কের নিউরনগুলো আরও সক্রিয় হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত একদিন সবুজ পরিবেশে সময় কাটানো স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের জন্য অত্যন্ত কার্যকর।
আরেকটি জনপ্রিয় কৌশল হলো ‘কাঞ্জি অনুশীলন’, যা মূলত লেখার মাধ্যমে স্মৃতি ধরে রাখার প্রক্রিয়া। জাপানে প্রতিদিন হাতে লিখে কিছু সময় ব্যয় করা,বিশেষ করে নতুন অক্ষর, বাক্য বা চিন্তা নোট করা,মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে একসঙ্গে সক্রিয় করে। এতে স্মৃতি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ে এবং মানসিক স্বচ্ছতা বজায় থাকে।
তৃতীয় পদ্ধতিটি হলো ‘নেমাওয়াশি’, যা দলীয় সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে চিন্তা ও আলোচনা করে মানসিক প্রস্তুতি নেওয়ার প্রক্রিয়া। এতে মনোযোগ ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা বাড়ে।
জাপানি খাদ্যাভ্যাসও মস্তিষ্কের শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাছ, সি-উইড, সবজি ও গ্রিন টি-ভিত্তিক ডায়েট মস্তিষ্কে প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে। এই খাবারগুলো নিয়মিত খেলে মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় কমে এবং বার্ধক্যজনিত ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ধীর হয়।
এছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুম, ধ্যান, ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাসও জাপানি জীবনধারার অপরিহার্য অংশ। বিশেষ করে ‘কাইজেন’ নামের এক জীবনদর্শন, যেখানে প্রতিদিন ছোট ছোট উন্নতির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা হয়, তা মস্তিষ্কের ধারাবাহিক উন্নতিতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জাপানি পদ্ধতিগুলো কোনো জাদু নয়, বরং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে শরীর ও মনের মধ্যে ভারসাম্য আনে। ফলে শুধু স্মৃতিশক্তিই নয়, সামগ্রিক মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au