মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- কিরগিজস্তানে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আখরোট বন এখন মারাত্মক পরিবেশগত সংকটে পড়েছে। মধ্য এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চলে প্রায় ৬ লাখ একরজুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চল শতাব্দী ধরে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য, অর্থনীতি এবং জলবায়ু ভারসাম্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এসেছে। কিন্তু বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অব্যবস্থাপনার কারণে দ্রুত হারে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে এই অনন্য বনভূমি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিক পদক্ষেপ না নিলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই এই বন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। কিরগিজস্তানের দক্ষিণাঞ্চলের জলাল-আবাদ অঞ্চলে অবস্থিত এই আখরোট বনকে স্থানীয়ভাবে বলা হয় “আরসালানবব ফরেস্ট”, যা কেবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক আখরোট বনই নয়, সবচেয়ে প্রাচীনগুলোর একটি। ধারণা করা হয়, এই বন প্রায় দুই হাজার বছর আগে থেকেই মানুষের চাষাবাদের বাইরে প্রাকৃতিকভাবে টিকে আছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ধরণ বদলে গেছে এবং খরার প্রকোপ বেড়েছে। এর ফলে আখরোট গাছের ফলন কমে যাচ্ছে এবং বনাঞ্চলের মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ জ্বালানি কাঠ হিসেবে বন থেকে গাছ কাটতে বাধ্য হচ্ছে, যা বন ধ্বংসের গতি আরও বাড়াচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আগে বছরে তিন থেকে চারবার আখরোট সংগ্রহ করা যেত, এখন একবারের বেশি সম্ভব হয় না। তাদের দাবি, সরকার পর্যাপ্ত পুনরায় বনায়ন কর্মসূচি নিচ্ছে না এবং বন রক্ষায় টেকসই বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলেনি।
পরিবেশ সংগঠনগুলো মনে করছে, এই বন কেবল কিরগিজস্তানের নয়, পুরো মধ্য এশিয়ার জলবায়ু ভারসাম্যের জন্য অপরিহার্য। তারা বলছে, যদি দ্রুত সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম না নেওয়া হয়, তাহলে এই আখরোট বন হারিয়ে গেলে তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও জলসম্পদে।
জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) ইতিমধ্যে এই বনকে “জরুরি সংরক্ষণের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত” বলে ঘোষণা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া কিরগিজস্তানের পক্ষে এককভাবে এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়।