কোণঠাসা বিজেপি কি ফের কট্টর হিন্দুত্বের পথে?
টানা আড়াই দশক ধরে ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থানে থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নানা কারণে এখন কিছুটা চাপে। এই পরিস্থিতিতে দলটি আবারও কট্টর হিন্দুত্বের রাজনীতির…
মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- যুক্তরাজ্য ওয়েলসে নতুন ধরনের ছোট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা ঘিরে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। ওয়াশিংটন অভিযোগ করেছে, প্রকল্পটির প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে চীনের সম্পৃক্ততা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থের পরিপন্থী হতে পারে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ওয়েলসের উত্তর উপকূলের অ্যাংলেসি দ্বীপে এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এটি “স্মল মডুলার রিঅ্যাক্টর” বা এসএমআর প্রযুক্তিনির্ভর, যা তুলনামূলকভাবে কম জায়গায় স্থাপনযোগ্য এবং স্বল্প খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে অংশ নিচ্ছে ব্রিটিশ কোম্পানি রোলস-রয়েস ও চীনা পারমাণবিক জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিজিএন।
প্রধানমন্ত্রী রিসি সুনাক বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, “এই প্রকল্প যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং দেশকে কার্বনমুক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনে আরও এগিয়ে নেবে। ভবিষ্যতের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এটি একটি বড় পদক্ষেপ।”
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এক মুখপাত্র বলেন, “চীনের পারমাণবিক প্রযুক্তি অংশীদারিত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আমরা ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছি।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের উদ্বেগের মূল কারণ হলো, সিজিএন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে বাণিজ্যিক গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র আশঙ্কা করছে, চীনা প্রযুক্তি ব্যবহার করলে সংবেদনশীল তথ্য বা অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, প্রকল্পটি পুরোপুরি যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করা হবে। তারা বলছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি এই উদ্যোগ ওয়েলস অঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ এই প্রকল্পকে ভবিষ্যতে কূটনৈতিক টানাপোড়েনে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। তারা বলছেন, জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার এই নতুন অধ্যায় যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভারসাম্যে নতুন প্রশ্ন তুলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au