মুক্তিযোদ্ধার ভাতার সঙ্গে অন্য কোনো ভাতার তুলনা চলে না: ফজলুর রহমান
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সঙ্গে অন্য…
মেলবোর্ন, ১৮ নভেম্বর-: বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেছেন:
“২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের সময় যে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তার জন্য যারা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়সঙ্গত বিচার হওয়া উচিত। কিন্তু এই বিচার ও রায় কোনোটাই ন্যায়সংগত নয়। ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি চান, অথচ মৃত্যুদণ্ড কেবল মানবাধিকারের লঙ্ঘনকেই আরও বাড়িয়ে তোলে। এটি সবচেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও অপমানজনক শাস্তি, যা কোনও ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় স্থান পাওয়ার কথা নয়।”
বেঁচে থাকা ভুক্তভোগী ও নিহতদের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি রাখে -এমন একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডসম্মত বিচার প্রক্রিয়া যার ওপর আস্থা রাখা যায়। কিন্তু এর বদলে এই বিচার হয়েছে এমন এক আদালতে, যাকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনতার অভাব, রাজনৈতিক প্রভাব এবং অন্যায্য প্রক্রিয়ার ইতিহাস থাকার কারণে সমালোচনা করে আসছে। তদুপরি, অনুপস্থিতিতে এত দ্রুত বিচার ও রায় ঘোষণা- বিশেষ করে এত জটিল ও বৃহৎ পরিসরের মামলায়-গুরুতর ন্যায়বিচারসংক্রান্ত প্রশ্ন তোলে।
শেখ হাসিনার জন্য আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী থাকলেও, আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রস্তুতির জন্য সময় ছিল স্পষ্টতই অপর্যাপ্ত। এর ওপর আবার অভিযোগ এসেছে যে বিরোধপূর্ণ প্রমাণের জেরা করার সুযোগও নাকি দেওয়া হয়নি- যা অন্যায্য বিচার প্রক্রিয়ার আরও একটি নির্দেশক।”
অ্যাগনেস ক্যালামার্ড আরও বলেন:
“এটি মোটেও ন্যায়সঙ্গত বিচার ছিল না। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ভুক্তভোগীরা এর চেয়ে অনেক ভালো প্রাপ্য। বাংলাদেশে এমন একটি বিচার প্রক্রিয়া প্রয়োজন যা নিখুঁতভাবে ন্যায়সঙ্গত, সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ এবং পক্ষপাতিত্বের সামান্যতম সন্দেহ থেকেও মুক্ত- এবং যা মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের পথে না যায়। কেবল তখনই সত্যিকারের ন্যায়বিচার, সত্য ও প্রতিকার নিশ্চিত হতে পারে।”
২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে সারাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা মনে করেছিলেন এই কোটা ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকদের সুবিধা দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে সরকারের বেআইনি শক্তি প্রয়োগের পর বিক্ষোভ আরও তীব্র হয় এবং শেখ হাসিনার সরকারের পদত্যাগের দাবি ওঠে। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরে জুন মাসে প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা, তার সরকারের সদস্য এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব, মৃত্যুদণ্ডের জন্য চাপ এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে অবমাননা মামলার মতো প্রাতিষ্ঠানিক অনিয়ম ও অন্যায্যতার অভিযোগ তুলে আসছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au