বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার বিচার: ১ বছরে চার বার আইন সংশোধন

  • 5:59 pm - November 18, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৮০ বার
ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ১৮ নভেম্বর- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এক বছরের মধ্যে চারবার সংশোধনী আনে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়।

প্রথম সংশোধনী নভেম্বর ২০২৪ সালে আনা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল এখন দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধও বিচার করতে পারবে। পাশাপাশি আদালত বিদেশি নাগরিকের ওপরও প্রযোজ্য হবে এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীর ওপরও বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে আক্রমণ, নিপীড়ন, গুম, যৌনদাসী, জোরপূর্বক গর্ভধারণ ও বন্ধ্যা করা অন্তর্ভুক্ত। ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য ও নথি সংগ্রহ, অডিও-ভিডিও শোনা ও প্রদর্শনের পাশাপাশি ভার্চুয়াল শুনানি আয়োজনের ক্ষমতা পায়।

দ্বিতীয় সংশোধনী ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আনা হয়। এতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় ছয় সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহে কমানো হয় এবং ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আর তল্লাশির জন্য অনুমতির প্রয়োজন না থাকার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর পর শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, সংযুক্ত সংগঠন বা ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার বিধান যোগ করা হয়। চতুর্থ সংশোধনী ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর জারি করা হয়। এতে নতুন ধারা ২০(সি) যোগ করা হয়, যার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের পর কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না এবং নির্বাচিত থাকলেও পদ হারাবে। স্থানীয় সরকার বা সরকারি পদে নিয়োগও অব্যাহত থাকবে না। তবে ট্রাইব্যুনাল কাউকে খালাস দিলে এই ধারা প্রযোজ্য হবে না।

গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেও সংশোধনীগুলো ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা পায়। অর্থাৎ, আইন কার্যকর হওয়ার তারিখের আগে সংঘটিত ঘটনাও এ ধারা অনুযায়ী বিচারযোগ্য হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুটি সংশোধনী আনা হয়েছিল।

এই ধারাবাহিক আইন সংশোধন ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক পরিস্থিতিতে তা গভীর প্রভাব ফেলেছে।

সুত্রঃ সমকাল

এই শাখার আরও খবর

উৎসবের মঞ্চে ঐতিহ্য ও মানবিকতার মেলবন্ধন, ‘মহাশক্তি সম্মান’-এ স্বীকৃতি ২৫ দুর্গাপুজোর

দুর্গাপুজোর ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক অবদান ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি দিতে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার ২৫টি দুর্গাপুজো কমিটিকে ‘মহাশক্তি সম্মান’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ‘উই আর দ্য কমন…

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au