বিশ্বকাপে নেইমারকে চান না আনচেলত্তি!
মেলবোর্ন, ১৮ মার্চ- চোট ও ফর্মের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাচ্ছে না নেইমারকে। কোচ কার্লো আনচেলত্তি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে নেইমারের দলে…
মেলবোর্ন, ২৫ নভেম্বর- আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ দিন আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন ট্রাইব্যুনালে আরজি জানিয়ে বলেন, শুধু রাজনৈতিক পরিচয়কে কেন্দ্র করে যেন বিচার না হয়। তার ভাষায়, তারা আওয়ামী লীগ করেন, তাই দলীয় পরিচয়ের জন্য কাউকে বিচারের মুখে পড়তে হলে তা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি হবে।
মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫ মিনিটে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারকাজ শুরু হয়। অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য তুলে ধরেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের অস্থিরতার সময় কুষ্টিয়ায় নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের ওপর গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করা হয়। এসব হত্যাকাণ্ডে হানিফসহ চারজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ রয়েছে এবং এ অপরাধের দায়মুক্তির সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, আসামিরা পলাতক থাকলেও তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার চালানোর বিধান আওয়ামী লীগ সরকারই প্রণয়ন করেছিল। তার এই বক্তব্যের পর ট্রাইব্যুনাল আইনটি স্মরণ করে।
প্রসিকিউশনের বক্তব্য শেষে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী আমির হোসেন কিছু কথা বলার অনুমতি চান। তার বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল বলেন, তারা আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে ন্যায়বিচার করতে বসেছেন। কোনও নির্দোষ ব্যক্তি যেন কখনও বিচারের মুখোমুখি না হন, সে বিষয়েও আদালত সতর্ক। তাই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিচার হবে এমন শঙ্কার কোনও ভিত্তি নেই।
এ মামলায় মোট ৩৮ জন সাক্ষী রয়েছেন, যার মধ্যে শহীদ পরিবারের সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী, আহত, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী, সাংবাদিক ও তদন্ত কর্মকর্তারা আছেন। প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের কথা থাকলেও প্রসিকিউশনের আবেদনের পর আদালত আগামী ৮ ডিসেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেন।
হানিফ ছাড়াও মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। অভিযোগপত্রে উসকানিমূলক বক্তব্য, পরিকল্পনা এবং ছয়জনকে হত্যার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে ৫ অক্টোবর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় এবং ৬ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। পলাতক থাকার কারণে ট্রাইব্যুনাল পরে তাদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করে।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় গুলিতে নিহত হন আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, বাবলু ফরাজী ও ইউসুফ শেখ। আহত হন আরও অনেকেই। এসব হত্যাকাণ্ডের পরই হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au