মেলবোর্ন, ২৭ নভেম্বর- ঢাকার বিশেষ জজ আদালত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের প্লট বরাদ্দ নিয়ে করা তিনটি দুর্নীতি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। এছাড়াও তার দুই সন্তানসহ অন্য আসামিদেরর বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
শেখ হাসিনাকে প্রতিটি মামলায় সাত বছর করে সাজা দেওয়া হয়। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল আলাদা দুটি মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড হয়েছে।
রায়ে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ তিনটি মামলায় ছয় বছর করে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।
একই মেয়াদে দণ্ড হয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার এবং একই মন্ত্রণালয়ের আরেক সাবেক সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিনের। গৃহায়ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদারও তিন মামলায় ছয় বছর করে মোট ১৮ বছরের সাজা পেয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিনকে দুই মামলায় ছয় বছর করে মোট ১২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম তিন মামলায় এক বছর করে মোট তিন বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছিল, যেসব ব্যক্তি ঢাকা শহরে বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা জমির মালিক ছিলেন, তারা সেই তথ্য গোপন করে বেআইনিভাবে পূর্বাচলে ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেন। আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার এ তিন মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এ রায়ের আগে গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। নতুন এ রায়ে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সাবেক রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসেবে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হলেন।
মামলার ২৩ জন আসামির মধ্যে খুরশীদ আলম ছাড়া কেউ গ্রেপ্তার হননি। তিনি গত ২৯ অক্টোবর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তার জামিন নাকচ হয়। আত্মসমর্পণের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাকে তুলনামূলক কম সাজা দিয়েছে। অন্য আসামিরা পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি এবং তাদের পক্ষে কোনো আইনজীবীও আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেননি।
দুদকের আইনজীবী খান মো. মাইনুল হাসান লিপন বলেছেন, তারা মামলাগুলোতে সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করেছিলেন। রায়ের কপি দেখে কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।