বাংলাদেশ

বিয়েতে মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে কনের বাবা-মাকে বেত্রাঘাত, জরিমানা

  • 8:50 pm - November 27, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৯৪ বার
বেত্রাঘাতের প্রতিকী ছবি

মেলবোর্ন, ২৭ নভেম্বর- নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে এক পরিবারকে মধ্যযুগীয় ধাঁচের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সামান্য সময়ের জন্য মাইক বাজানোর অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সালিশে কনের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের বেত্রাঘাত করা হয়। ক্ষমা চাইলেও তারা এ শাস্তি থেকে রেহাই পাননি। পাশাপাশি পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা। টাকা জোগাড় করতে না পারায় কনের স্বামীর একমাত্র জীবিকার মাধ্যম অটোরিকশা আটকে রাখা হয়। ঘটনাটির পর পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে আছে।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের নোয়াখালি জেলার হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি অনানুষ্ঠানিক সালিশে এই রায় দেওয়া হয়। জানা যায়, কয়েক মাস আগে শাহজাহানের মেয়ের বিয়ে হলেও আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি। বুধবার সেই আয়োজন করা হয় এবং আনন্দের অংশ হিসেবে মাইক ব্যবহার করা হয়। কিছু স্থানীয় ব্যক্তি মাইক বাজানো নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি বাগাড়ম্বরে রূপ নেয় এবং পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপরই প্রভাবশালী কয়েকজন সালিশ ডেকে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেন।

মেয়ের বাবা শাহজাহান জানান, তারা গরিব মানুষ এবং একটু উৎসবের আনন্দেই মাইক বাজিয়েছিলেন। কিন্তু আফসার, ছারোয়ার ও মালেকসহ কয়েকজন তাদের পরিবারকে মারধর করে। সালিশে আলাউদ্দিন মাঝি, তছলিম, আনোয়ার মাঝি, সেন্টু ও রফিকসহ কয়েকজন সবাইকে ১৫ করে বেত মারার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, পরিবারের সবাই বারবার ক্ষমা চাইলেও কেউ শোনেনি। বেত্রাঘাতের পর ৩০ হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়। জরিমানার টাকা জোগাতে না পারায় আফসার তার জামাইয়ের অটোরিকশা জব্দ করে রেখেছে।

সালিশে উপস্থিত আলাউদ্দিন মাঝি দাবি করেন, মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের সময় আফসারের ৫০ হাজার টাকা হারিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রমাণ না পেলেও সালিশদারদের একজন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন, নারীদের বেত মারা হয়নি, পুরুষদের ওপরই তা প্রয়োগ করা হয়। নারীদের শাসনের দায়িত্ব পরিবারের মুরব্বি হিসেবে শাহজাহানকে দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের বক্তব্য, এ ধরনের সালিশ সম্পূর্ণ বেআইনি। দেশের আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের বিচার করতে পারে কেবল আদালত। গ্রাম্য আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই কাউকে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার। এ ঘটনা ব্যক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘনের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। মাইক বাজানোর মতো সাধারণ ঘটনায় একটি পরিবারকে নির্যাতন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সাগরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন বলেন, তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তিনি উভয়পক্ষকে আইনি পথ অনুসরণের পরামর্শ দেন। কিন্তু তারা গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করায় তিনি সেখানে আর থাকেননি। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্রঃ দৈনিক সমকাল

এই শাখার আরও খবর

নড়াইলে বাড়ির সামনে থেকে হিন্দু শিক্ষিকার গলার চেইন ছিনতাই

নড়াইলের লোহাগড়া পৌর এলাকায় বাড়ির সামনে থেকে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। ছিনতাইয়ের পুরো ঘটনা ওই শিক্ষিকার বাড়ির সিসিটিভি…

৭ গোলের জয়েও আক্ষেপ বাংলাদেশের কোচের

এশিয়া কাপ অনূর্ধ্ব-২০ হকিতে চাইনিজ তাইপেকে ৭-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। বড় ব্যবধানে জয় পেলেও দলের পারফরম্যান্সে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি বাংলাদেশের কোচ মহসিন। বিশেষ করে…

ভিজিট ভিসা নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের সতর্কবার্তা

বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু কার্যক্রম করা যাবে না বলে সতর্ক করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক…

ইন্দোনেশিয়ায় অবৈধ প্রবেশের সময় ৮ বাংলাদেশিসহ আটক ১৬

মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ পথে ইন্দোনেশিয়ায় প্রবেশের সময় আট বাংলাদেশিসহ ১৬ জন অভিবাসী শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির নৌবাহিনী। সোমবার রিয়াউ প্রদেশের দুমাই শহরের উপকূলীয় এলাকায় অভিযান…

মিটার-সংযোগ ছাড়াই গ্রাহকের নামে এলো ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের নতুন মিটার স্থাপন কিংবা সংযোগ দেওয়ার আগেই এক গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল তৈরি হয়েছে। আগস্ট মাসের ওই বিল দেখে বিস্মিত হয়েছেন…

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au