দিল্লির হোটেল অগ্নিকাণ্ডে ২১ প্রাণহানি, অবহেলার অভিযোগে গ্রেফতার রাঁধুনি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ভারতের রাজধানী দিল্লির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবহেলার অভিযোগে হোটেলের রাঁধুনি কেশব নেগিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই…
মেলবোর্ন, ২৭ নভেম্বর- নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে এক পরিবারকে মধ্যযুগীয় ধাঁচের নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সামান্য সময়ের জন্য মাইক বাজানোর অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সালিশে কনের বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যদের বেত্রাঘাত করা হয়। ক্ষমা চাইলেও তারা এ শাস্তি থেকে রেহাই পাননি। পাশাপাশি পরিবারের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা। টাকা জোগাড় করতে না পারায় কনের স্বামীর একমাত্র জীবিকার মাধ্যম অটোরিকশা আটকে রাখা হয়। ঘটনাটির পর পরিবারটি চরম অসহায় অবস্থার মধ্যে আছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার দুপুরে বাংলাদেশের নোয়াখালি জেলার হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি অনানুষ্ঠানিক সালিশে এই রায় দেওয়া হয়। জানা যায়, কয়েক মাস আগে শাহজাহানের মেয়ের বিয়ে হলেও আনুষ্ঠানিকতা করা হয়নি। বুধবার সেই আয়োজন করা হয় এবং আনন্দের অংশ হিসেবে মাইক ব্যবহার করা হয়। কিছু স্থানীয় ব্যক্তি মাইক বাজানো নিয়ে প্রশ্ন তুললে পরিস্থিতি বাগাড়ম্বরে রূপ নেয় এবং পরে মারামারির ঘটনা ঘটে। এরপরই প্রভাবশালী কয়েকজন সালিশ ডেকে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেন।
মেয়ের বাবা শাহজাহান জানান, তারা গরিব মানুষ এবং একটু উৎসবের আনন্দেই মাইক বাজিয়েছিলেন। কিন্তু আফসার, ছারোয়ার ও মালেকসহ কয়েকজন তাদের পরিবারকে মারধর করে। সালিশে আলাউদ্দিন মাঝি, তছলিম, আনোয়ার মাঝি, সেন্টু ও রফিকসহ কয়েকজন সবাইকে ১৫ করে বেত মারার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, পরিবারের সবাই বারবার ক্ষমা চাইলেও কেউ শোনেনি। বেত্রাঘাতের পর ৩০ হাজার টাকার জরিমানাও ধার্য করা হয়। জরিমানার টাকা জোগাতে না পারায় আফসার তার জামাইয়ের অটোরিকশা জব্দ করে রেখেছে।
সালিশে উপস্থিত আলাউদ্দিন মাঝি দাবি করেন, মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের সময় আফসারের ৫০ হাজার টাকা হারিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। প্রমাণ না পেলেও সালিশদারদের একজন ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নির্ধারণ করেন। তিনি বলেন, নারীদের বেত মারা হয়নি, পুরুষদের ওপরই তা প্রয়োগ করা হয়। নারীদের শাসনের দায়িত্ব পরিবারের মুরব্বি হিসেবে শাহজাহানকে দেওয়া হয়।
স্থানীয়দের বক্তব্য, এ ধরনের সালিশ সম্পূর্ণ বেআইনি। দেশের আইন অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধের বিচার করতে পারে কেবল আদালত। গ্রাম্য আদালতের কোনো এখতিয়ার নেই কাউকে শারীরিক শাস্তি দেওয়ার। এ ঘটনা ব্যক্তি স্বাধীনতা লঙ্ঘনের পাশাপাশি ফৌজদারি অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। মাইক বাজানোর মতো সাধারণ ঘটনায় একটি পরিবারকে নির্যাতন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সাগরিয়া ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফরহাদ হোসেন বলেন, তারা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। তিনি উভয়পক্ষকে আইনি পথ অনুসরণের পরামর্শ দেন। কিন্তু তারা গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করায় তিনি সেখানে আর থাকেননি। এ বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্রঃ দৈনিক সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au