মেলবোর্ন, ১ ডিসেম্বর- জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে যে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বৈশ্বিক ক্ষুধার চিত্র আরও ভয়াবহ হতে পারে। সংস্থার হিসাব বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে অনাহারের ঝুঁকিতে পড়তে পারে ৫০ কোটির বেশি মানুষ। রোববার মস্কো কার্যালয়ের পরিচালক ওলেগ কোবিয়াকভ এই তথ্য তুলে ধরেন।
রুশ সংবাদমাধ্যম রিয়া নভোস্তিকে তিনি বলেন, ক্ষুধাপীড়িত মানুষের বেশিরভাগই থাকবে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। তার মতে, সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো এবং কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এখন জরুরি।
কোবিয়াকভ জানান, বিশ্ব এখনও দুর্ভিক্ষ প্রতিরোধে যথেষ্ট প্রস্তুত নয়। সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ, কোভিড–১৯ পরবর্তী প্রভাব ও খাদ্যমূল্য বৃদ্ধির মতো কারণগুলো একসঙ্গে চাপ বাড়াচ্ছে। এর ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষ দ্রুতই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এফএওর পর্যবেক্ষণে গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান, হাইতি ও মালিকে বর্তমানে সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু গাজাতেই প্রায় ২০ লাখ মানুষ মারাত্মক খাদ্য সংকটে ভুগছে এবং অনাহারের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ বছর অক্টোবরের হিসাবে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য সামান্য কমেছে। চিনি ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমলেও মাংসের দাম বেড়েছে। ফুড প্রাইস ইনডেক্স সেপ্টেম্বরে নেমে এসেছে ১২৮.৮ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় কিছুটা কম হলেও সংকট কাটার লক্ষণ নয়।
বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা সংঘাত ও সরবরাহব্যবস্থার চাপ বিবেচনায় এফএও বলছে, এখনই উদ্যোগ না নিলে ক্ষুধায় ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়তে পারে।