জয়পুরহাটে ধান কাটা নিয়ে তর্কের জেরে দিনমজুরকে হত্যা
মেলবোর্ন, ৭ জুন- জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলায় ধান কাটা নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে শ্যামল চন্দ্র মালী (৫০) নামে এক দিনমজুর নিহত হয়েছেন। শনিবার (৬ জুন) বিকেলে উপজেলার কাশিড়া…
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে জটিলতা, ভোটার হওয়া এবং পাসপোর্ট প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনার সূত্র ধরে এখন প্রশ্ন উঠছে, তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা কোথায় এবং কেন ট্রাভেল পাসের কথা উঠছে।
শনিবার তারেক রহমান ফেসবুকে লিখেছিলেন, দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ তার একার হাতে নেই। এই মন্তব্য সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তার দেশে ফেরা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তার জন্ম দেয়। এর পরদিন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ঘোষণা দেন, যদি তিনি দেশে ফিরতে চান তাহলে একদিনেই তাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে। এখান থেকেই নতুন করে প্রশ্ন জাগে, তারেক রহমান কি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাননি বা নেননি?
কেন ট্রাভেল পাস?
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্যাখ্যা দেন, ট্রাভেল পাস সাধারণত তখন দেওয়া হয়, যখন কোনো নাগরিকের বৈধ পাসপোর্ট থাকে না, পাসপোর্ট হারিয়ে যায় অথবা দ্রুত দেশে ফেরার প্রয়োজন হয়। এটি এক ধরনের ওয়ান টাইম ডকুমেন্ট, যা শুধুই বাংলাদেশে ফেরার জন্য ব্যবহার করা যায়।
সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবিরও বলেন, ট্রাভেল পাস কেবলমাত্র দেশে ফেরার জন্য দেওয়া হয়। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যদি তারেক রহমানকে ট্রাভেল পাস দিতে হয়, তার মানে দাঁড়ায় তিনি এখন বাংলাদেশি পাসপোর্ট ব্যবহার করছেন না।
২০১৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাসপোর্ট নিয়ে বিতর্ক ওঠে। তখন দাবি করা হয়েছিল, তিনি নাকি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছিলেন। বিএনপি তা অস্বীকার করে জানায়, ২০১২ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন এবং তা গৃহীত হয়।
তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ১৫ মাস পরও কেন তিনি নতুন পাসপোর্ট নেননি বা আবেদন করেননি, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, বিষয়টি নিয়ে কোনো জটিলতা হওয়ার কথা নয়, সরকারের সদিচ্ছাও আছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলতে পারেননি, তারেক রহমান পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছেন কি না।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, তারেক রহমানের দেশে ফেরায় কোনো আইনগত বাধা নেই। তিনি দেশের নিরাপত্তা ও অন্যান্য ব্যবস্থায় সহযোগিতা করার আশ্বাসও দেন।
আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিএনপির ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় তারেক রহমানের নাম রয়েছে। কিন্তু সোমবার ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, তিনি এখনো ভোটার হননি।
বাংলাদেশে ভোট দিতে হলে ভোটার তালিকায় থাকা বাধ্যতামূলক। একইভাবে ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া যায় না।
তবে ইসি সচিব বলেছেন, কমিশন চাইলে তিনি দেশে ফেরার পর ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন এবং প্রার্থীও হতে পারেন। কমিশনের অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার আইনে রয়েছে।
প্রবাসী ভোটার তালিকায় নাম তুলতে চাইলে বিদেশি বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট, নাগরিকত্বের কাগজ বা দ্বৈত নাগরিকত্বের কপি জমা দিতে হয়। এই তথ্য থেকে ধারণা করা যায়, তারেক রহমানের বাংলাদেশি বা ব্রিটিশ পাসপোর্ট, অথবা দ্বৈত নাগরিকত্বের অবস্থা এখনো পরিষ্কার নয়।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতির অভিযোগে ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনে যান তিনি। এরপর থেকেই তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। অক্টোবরের শুরুতে বিবিসি বাংলাকে তিনি জানান, দ্রুত দেশে ফিরতে চান এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন। বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, তিনি নভেম্বরেই ফিরবেন। কিন্তু মাসের শেষ দিনে তিনি নিজেই জানালেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তার একার হাতে নেই।
সব মিলিয়ে তারেক রহমানের দেশে ফেরা, ভোটার হওয়া ও নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রক্রিয়া জটিল এবং বহুস্তরীয়। পাসপোর্ট ও ট্রাভেল পাস সংক্রান্ত বিতর্ক সেই জটিলতার নতুন মাত্রা যোগ করেছে, আর তা এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au