ভিভিআইপি নিরাপত্তা। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করেছে। সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন ২০২১-এর ২(ক) ধারার আওতায় তাকে ভিভিআইপি মর্যাদা দেওয়া হলো এবং সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে। এই ঘোষণার মাধ্যমে তার জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স বা এসএসএফ নিয়োগও নিশ্চিত হয়েছে।
কারা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন
রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে থাকা এবং নীতি নির্ধারণ বা প্রশাসনিক গুরুত্বসম্পন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সাধারণত অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হন। এর মধ্যে আছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী বা সমমর্যাদার ব্যক্তিরা। এছাড়া সরকারের বিবেচনায় যেকোনো ব্যক্তিকে আলাদা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই মর্যাদায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
কীভাবে ঘোষণা করা হয়
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আর বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানায় কারা অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হবেন। যাদের পদাধিকারেই এই মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রাপ্ত, তাদের ক্ষেত্রে আলাদা করে প্রজ্ঞাপন লাগে না। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে সরকার তা ঘোষণা করে।
ভিভিআইপি মর্যাদায় কী কী সুবিধা পাওয়া যায়
বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন ২০২১ অনুযায়ী অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এসএসএফের দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও আইনের ৮(২) ধারায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে অবস্থানরত যেকোনো অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে দৈহিক নিরাপত্তা প্রদান করবে এই বাহিনী।
এর আওতায় ভিভিআইপির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসএসএফ
• সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রদান করে
• সম্ভাব্য ঝুঁকি বা হুমকি সম্পর্কিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে
• নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে
• প্রয়োজন হলে দেশজুড়ে যেকোনো স্থানে হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার করতে পারে
• চরম পরিস্থিতিতে হুমকি ঠেকাতে গুলি চালানো বা প্রাণঘাতী ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতাও রাখে
এসএসএফ সাধারণত ভিভিআইপির বাসভবন, চলাচলের পথ, চিকিৎসা গ্রহণের স্থান, অনুষ্ঠানস্থলসহ সব জায়গায় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে। যানবাহনের নিরাপত্তা, পথনিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, সিকিউরিটি স্ক্যানিংসহ নানা পর্যায়ের সুরক্ষাও এই বাহিনীর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
খালেদা জিয়াকে ভিভিআইপি ঘোষণা করার ফলে এখন থেকে তার সার্বিক নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আরও জোরদার হবে। তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা জোরদারের এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।