নির্বাচন কমিশন (ইসি)।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ ডিসেম্বর- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে জাতির উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের ভাষণ আজ বিকেল ৪টায় রেকর্ড করা শুরু হয়েছে।
বুধবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ইসি সচিব আখতার হোসেন।
এর আগে এদিন দুপুরে নির্বাচন–পূর্ব প্রস্তুতি ও সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), চার কমিশনার এবং ইসি সচিব রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল কবে ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার হোসেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য কমিশনারদের বৈঠক শেষে বুধবার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
ইসি সচিব বলেন, রাষ্ট্রপতি তপশিলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি মূলত আগ্রহ দেখিয়েছেন আউট অব কান্ট্রি ভোট নিয়ে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রপতি জানিয়েছেন, অর্থবহ নির্বাচন আয়োজন করতে তার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা থাকবে।
আখতার হোসেন আরও জানান, বিকেল ৪টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ভাষণ রেকর্ড করা হবে। তবে তপশিল কখন ঘোষণা করা হবে, তা নিয়ে সার্বিকভাবে এখনো আলোচনা চলছে। দুই ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে আবার আপডেট দেওয়া হবে।
এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল ঘোষণার আগে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন প্রতিনিধিদল। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে দলটি বঙ্গভবনে বৈঠকে অংশ নেয় এবং বিকেল ২টার দিকে বেরিয়ে আসে।
রেওয়াজ অনুযায়ী, তপশিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতিকে পূর্ণ প্রস্তুতি জানানো হয়। এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার ভাষণের মাধ্যমে বিটিভি ও বেতারে তপশিল ঘোষণা করে থাকেন।
এবারের নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটার, দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা এবং কয়েদিরা আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক জোট গঠিত হলেও অন্য দলের প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।
সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন প্রায় ১৩ কোটি নাগরিক। নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।
ভোটারদের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে। মোট ভোটকক্ষ ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি, যার মধ্যে পুরুষ ভোটকক্ষ ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭ এবং নারী ভোটকক্ষ ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি। দুই ধরনের ভোট একসঙ্গে হওয়ায় গোপন কক্ষের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এবারের ভোট সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে।