বাংলাদেশ

সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে ইসির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কী কী

  • 8:51 pm - December 11, 2025
  • পঠিত হয়েছে:৩৬৪ বার
নির্বাচন ভবন। ছবিঃ বিবিসি

মেলবোর্ন, ১১ ডিসেম্বর- আজ(বৃহস্পতিবার) তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া। সিইসি জাতির উদ্দেশে ভাষণে নির্বাচন ও গণভোটের দিনক্ষণ জানাবেন। সরকারের আগের ঘোষণায় বলা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট হতে পারে। এরই মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করছে, কোনো কোনো দল প্রায় সব আসনের প্রার্থী ঘোষণা করে ফেলেছে। মাঠে উত্তেজনাও বাড়ছে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ আর নানা বক্তব্যে।

বিশ্লেষকদের মতে তফসিল ঘোষণায় অনিশ্চয়তা কমলেও সামনে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। কমিশন আগেই জানিয়েছে প্রস্তুতি প্রায় শেষ। তফসিল ঘোষণার পর দ্রুত প্রায় ২০টি পরিপত্র জারি করা হবে বলে কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন। তবুও পরিস্থিতি বিবেচনায় কয়েকটি চ্যালেঞ্জ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

এবার একসঙ্গে দুটি ভোট আয়োজন করবে ইসি। সংসদ নির্বাচন আর গণভোটের জন্য থাকবে আলাদা রঙের ব্যালট। সংসদের ব্যালট হবে সাদা কাগজে, গণভোটের ব্যালট হবে রঙিন কাগজে।

বিশ্লেষক আব্দুল আলীম মনে করেন, দুই ভোট মিলিয়ে ১০ কোটির বেশি ভোটারের অংশগ্রহণ হলে গণনা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, একদিনে প্রায় ২০ কোটি ব্যালট গোনা সহজ নয়। ২০০৮ সালে মাত্র সাত কোটি ভোটার থাকলেও ফল গণনা শেষ হয়েছিল পরদিন সকালে। এবার কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।

জেসমিন টুলি মনে করেন গণভোটের ব্যালট পড়তে অতিরিক্ত সময় লাগবে, ফলে বুথে চাপ বাড়বে। গণনায় দেরি হলে প্রার্থীদের অস্থিরতা বা সহিংসতার ঝুঁকিও বাড়ে।

ব্যালট ব্যবস্থাপনা ও বুথচাপ

এই নির্বাচনে ৩০০ আসনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্র ও প্রায় আড়াই লাখ বুথ থাকবে। পূর্বের ধারণা অনুযায়ী একজন ভোটার গড়ে ব্যালটের সিল, ভাঁজ ও জমা দিতে ৫২ সেকেন্ড সময় নেবে। নারী ভোটারদের জন্য প্রয়োজন হবে প্রায় ৫৭ সেকেন্ড এবং পুরুষদের জন্য ৪৮ সেকেন্ড।

এবার একজন ভোটারকে একই সময়ে দুই ব্যালট পূরণ করতে হবে। প্রশ্ন উঠছে, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে একটি বুথে ৫০০ কিংবা ৬০০ ভোটারকে কি ভোট করানো সম্ভব হবে?

এ ছাড়া প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনাও প্রথমবারের মতো ইসির জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

আসনসীমা নিয়ে অনিশ্চয়তা

তফসিল ঘোষণার পর ইসি আসন বিন্যাসের পরিপত্র জারি করবে। তবে বাগেরহাট ও গাজীপুরের আসনসংখ্যা নিয়ে আদালতের রায়ের কারণে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে। রায় অনুযায়ী বাগেরহাটে চারটি এবং গাজীপুরে পাঁচটি আসন রাখতে হবে। নতুন গেজেট প্রকাশের আগে ৩০০ আসনের পূর্ণ তফসিল ঘোষণা আইনগতভাবে সম্ভব নয়। আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া তফসিলের সময়কে প্রভাবিত করতে পারে।

নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি

দলগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সামাজিক মাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছেন যে তাদের ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না। অন্যদিকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের মধ্যে প্রার্থী বাছাই নিয়ে ভেতরকার দ্বন্দ্ব বাড়ছে, মাঠে তিক্ততাও বাড়ছে।

জেসমিন টুলির মতে, অংশগ্রহণমূলক এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ছাড়া পরিবেশ স্থিতিশীল হয় না। ভোটারদের আস্থা ফেরাতে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আইনশৃঙ্খলা ও সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা

ইসি জানিয়েছে ৯৪ হাজার সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবে। প্রতিটি উপজেলায় একটি করে সেনা কোম্পানি থাকবে। তফসিল ঘোষণার পর মোবাইল কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ, তদন্ত কমিটি ও মনিটরিং সেল গঠনের পরিপত্র জারি করা হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা যথেষ্ট শক্ত অবস্থানে পৌঁছায়নি। তফসিল ঘোষণার পর কমিশন কী পদক্ষেপ নেয় সেদিকে নজর থাকবে।

রাজনৈতিক দলগুলোকে সংযত রাখা

বাংলাদেশে নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক সহনশীলতার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন পরিবেশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ব্যাহত করে। আবার ফল না মেনে নেওয়ার প্রবণতা সহিংসতা ডেকে আনে।

জেসমিন টুলি মনে করেন, দলগুলোকে ধৈর্য ধরতে এবং ফল মেনে নেওয়ার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই আস্থা তৈরি করাই কমিশনের জন্য বড় কাজ।

সামাজিক মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ইসি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার, প্রচারণা, অ্যাকাউন্ট আইডি জমা দেওয়া এবং এআই বিপর্যয় ঠেকাতে আচরণবিধি করেছে। ভুল তথ্য, Deepfake, চেহারা বিকৃত করা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, বানোয়াট তথ্য প্রচার নিষিদ্ধ। তবে বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, এসব কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোন ব্যবস্থায় শনাক্ত করা হবে সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au