পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ ডিসেম্বর- পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সাবেক মহাপরিচালক এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফয়েজ হামিদকে চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কঠোর কারাদণ্ড দিয়েছে সামরিক আদালত। পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট শুরু হওয়া দীর্ঘ ১৫ মাসের ফিল্ড জেনারেল কোর্ট মার্শালের কার্যক্রম শেষে বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে।
ফয়েজ হামিদ ইমরান খানের শাসনামলে আইএসআই প্রধান ছিলেন। আইএসপিআর জানায়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, রাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নাগরিকদের ক্ষতি সাধন। সব অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে কঠোর কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পাকিস্তানের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সাবেক আইএসআই প্রধান কোর্ট মার্শালে সাজা পেলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার প্রক্রিয়ায় তিনি তার পছন্দের আইনজীবীসহ সব অধিকার পেয়েছেন। রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করতে পারবেন। সেনাবাহিনী আরও জানায়, রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে তার সম্পৃক্ততা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত আইএসআই-এর ডি-জি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ফয়েজ হামিদকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ, রাজনৈতিক প্রতিশোধ, গ্রেফতার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা অভিযোগের মুখে পড়তে হয়েছিল। তার ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইমরান খান সরকারের সময় তার প্রভাব এতটাই দৃশ্যমান হয়ে যায় যে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
ফয়েজ হামিদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো চলছে, তার মধ্যে অন্যতম টপ সিটি হাউজিং সোসাইটির মালিক মুইজ আহমেদ খানের অভিযোগ। তিনি সুপ্রিম কোর্টে দাবি করেন, আইএসআই কর্মকর্তারা অভিযানের নামে তার বাড়ি ও অফিস থেকে স্বর্ণ, হীরা ও নগদ অর্থ নিয়ে যান। অভিযোগে আরও বলা হয়, ফয়েজ হামিদের ভাই সরদার নাজাফ বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও কর্মকর্তারা তাকে চাপ দিয়ে চার কোটি রুপি দিতে বাধ্য করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট তদন্তের নির্দেশ দেয়, যার পর সেনাবাহিনী একটি কমিটি গঠন করে।
আইন অনুযায়ী, অবসরের ছয় মাস পর কোনো সেনা কর্মকর্তা সাধারণত কোর্ট মার্শালের আওতায় পড়েন না। তবে আর্মি অ্যাক্টের ৩১ ও ৪০ নম্বর ধারা এর ব্যতিক্রম, যেগুলো বিদ্রোহে প্ররোচনা এবং আর্থিক জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ নিয়ে। এই ধারাগুলোর ভিত্তিতেই ফয়েজ হামিদের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অনুসন্ধান প্রক্রিয়া এবং কোর্ট মার্শাল সম্পর্কেও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয় সেনাবাহিনী। কোর্ট অব ইনকোয়ারির সুপারিশের পর কোর্ট মার্শাল শুরু হয়, যেখানে অভিযোগপত্র দেওয়া থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যন্ত সবকিছু নির্দিষ্ট বিধি মেনে হয়। অভিযুক্ত চাইলে নিজস্ব আইনজীবী ও সাক্ষী হাজির করতে পারেন।
এখনও পর্যন্ত ফয়েজ হামিদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা তারার বলেছেন, প্রমাণের ভিত্তিতেই এই রায় হয়েছে এবং যে ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করেছিলেন তিনি এখন শাস্তি পেলেন।
সূত্রঃ বিবিসি বাংলা