ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে নতুন সংকট, নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার পর চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় হাজারো মানুষ এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
শুক্রবার সকাল থেকেই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে উত্তরাঞ্চলের তুলনামূলক নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে শুরু করেন। বিশেষ করে টাইর ও সাইদা শহরের মধ্যবর্তী গুরুত্বপূর্ণ কাসমিয়েহ সেতু দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। এতে প্রধান সড়কগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং অনেক পরিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথে আটকে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় মানুষ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করছে। অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষিজমি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। শিশু, নারী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা হওয়ার খবর প্রকাশিত হলেও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতিতে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বরং সাম্প্রতিক হামলা ও পাল্টা উত্তেজনায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও জানিয়েছে, চলমান সংঘাতে তাদের কয়েকজন সেনা সদস্য হতাহত হয়েছেন। ফলে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সংঘর্ষ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সীমান্ত যুদ্ধ বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
পরিস্থিতির অবনতিতে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থা ও ত্রাণ সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ লেবাননে নতুন মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কৌশলগত মতপার্থক্যও প্রকাশ্যে এসেছে। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি কাঠামোর আলোচনায় লেবাননের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার চুক্তির বাধ্যতামূলক শর্ত নয়। পাশাপাশি আত্মরক্ষার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে বলেও তারা উল্লেখ করেছেন।
সামগ্রিকভাবে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। অব্যাহত বিমান হামলা, সীমান্ত উত্তেজনা এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।