পলিন হ্যানসন । ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ জুন- অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থি দল ওয়ান নেশনের নেতা পলিন হ্যানসনের সাম্প্রতিক ভাষণকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে দেওয়া হ্যানসনের বক্তব্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল ও বক্তব্যের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে।
অস্ট্রেলিয়ান সাংবাদিক রোহান স্মিথ এক বিশ্লেষণে মন্তব্য করেছেন, ৭২ বছর বয়সী পলিন হ্যানসন তার ৫১ মিনিটের ভাষণে যে অস্ট্রেলিয়ার চিত্র তুলে ধরেছেন, তা ছিল একটি বিভক্ত ও সংকটময় সমাজের ধারণা, যা অনেকটাই ট্রাম্পের রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ভাষণে হ্যানসন অভিবাসন, বহুসংস্কৃতিবাদ, গণমাধ্যম, জলবায়ু পরিবর্তন এবং লিঙ্গ পরিচয়সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বহুসংস্কৃতিবাদকে ব্যর্থ নীতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ‘একক সাংস্কৃতিক পরিচয়ের’ দেশে পরিণত করার পক্ষে মত দেন।
একই সঙ্গে তিনি অভিবাসন কমানোর আহ্বান জানান এবং দাবি করেন, অতিরিক্ত অভিবাসন দেশের আবাসন সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোর ওপর চাপ তৈরি করছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছর ধরে দেশটিতে নিট বিদেশি অভিবাসনের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে।
রোহান স্মিথের মতে, হ্যানসনের বক্তব্যে অভিবাসীদের দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাংবাদিকদের প্রতি আক্রমণাত্মক মনোভাব, জলবায়ু পরিবর্তনকে গুরুত্বহীন হিসেবে উপস্থাপন এবং সামাজিক সংখ্যালঘুদের বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মাধ্যমে হ্যানসন অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাষার অনুকরণ করেছেন।
ভাষণের সময় তিনি গণমাধ্যমের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এছাড়া লিঙ্গ পরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন, যা মানবাধিকারকর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং সামাজিক মূল্যবোধের মতো ইস্যুগুলোকে সামনে এনে ভোটারদের একটি অংশকে আকৃষ্ট করার কৌশল নিয়েছেন পলিন হ্যানসন। তবে তার বক্তব্য অস্ট্রেলিয়ার বহুসংস্কৃতিবাদী সমাজব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।
সমালোচকেরা মনে করছেন, অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিভাজনমূলক বক্তব্যের পরিবর্তে বাস্তব সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে হ্যানসনের সমর্থকেরা বলছেন, তিনি এমন কিছু বিষয় তুলে ধরছেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
সব মিলিয়ে পলিন হ্যানসনের এই ভাষণ অস্ট্রেলিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এবং আগামী নির্বাচনের আগে অভিবাসন ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নকে আবারও কেন্দ্রীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছে।