‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ১৮ ডিসেম্বর- সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হওয়া জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংগঠনটি বলেছে, মতপ্রকাশের কারণে ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতার অংশ। বুধবার ১৭ ডিসেম্বর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান জানানো হয়।
বিবৃতিতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তা রিহাব মাহামুর বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যক্রমে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগে যেভাবে আনিস আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার জন্য গুরুতর হুমকি। তিনি বলেন, মানুষের মতামত প্রকাশকে স্তব্ধ করতে সন্ত্রাসবিরোধী আইন অপব্যবহার না করে নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত মুক্ত মতপ্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
রিহাব মাহামুর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের আওতায় বাংলাদেশের যে আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা মেনে আনিস আলমগীরকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
অ্যামনেস্টির বিবৃতিতে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আদালতে আনিস আলমগীর নিজেকে একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি গত দুই দশক ধরে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করে আসছেন এবং তার কাজ কখনও কারও কাছে মাথা নত করা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রচারের অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সেই মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ঢাকার একটি মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চলতি বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সংশোধনের পর থেকে এই আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ তালিকায় সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্নার নামও রয়েছে। আন্তর্জাতিক আইনে মতপ্রকাশ ও সংগঠনের স্বাধীনতা দমনে সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহারের বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, সবার মানবাধিকার সুরক্ষিত রাখতে এবং অধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au