বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান
বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে টোকিও।…
মেলবোর্ন, ১৯ ডিসেম্বর- দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা আইনি লড়াই ও অপেক্ষার পর অবশেষে ২৭তম বিসিএসের নিয়োগবঞ্চিত ৬৭৩ জন প্রার্থী চাকরি পেলেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনার আলোকে বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁদের বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ন রাখতে ২৭তম বিসিএসের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপনের তারিখ থেকে এ আদেশ ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ প্রথম দফায় নিয়োগপ্রাপ্তদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁদের ধারণাগত জ্যেষ্ঠতা নির্ধারিত হবে। তবে দীর্ঘ সময় চাকরির বাইরে থাকার কারণে এ সময়ের জন্য কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা তাঁরা পাবেন না। জ্যেষ্ঠতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হবে আপিল বিভাগের রায়ের ভিত্তিতে।
নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক বলে গণ্য হবেন এবং তাঁর নিয়োগপত্র বাতিল হবে।
২০০৭ সালে ২৭তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের কারণে যাঁরা বাদ পড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ১৩৭ জনকে গত ২০ ফেব্রুয়ারি নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয় আপিল বিভাগ। এরপর বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ৬৭৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হলো।
২৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে। লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হন। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে প্রথম দফার মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে। পরে ওই বছরের জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে ফল প্রকাশের পর ৩ হাজার ২২৯ জনকে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আদালতে রিট করেন। ২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে ২৫ জন প্রার্থী আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন। পাশাপাশি ২০৫ জন আবেদনকারীর আরেক রিটে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০০৯ সালের ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণা করে। সরকার ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি লিভ টু আপিল করে।
শেষ পর্যন্ত ২০১০ সালের ১১ জুলাই তৎকালীন প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিমের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারকের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ প্রথম মৌখিক পরীক্ষা বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। একই সঙ্গে দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা অবৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে সরকারের করা লিভ টু আপিল কিছু পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করা হয়।
দীর্ঘ এই আইনি প্রক্রিয়ার পর নিয়োগ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। প্রশাসনিক অঙ্গনে এ সিদ্ধান্তকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দৃষ্টান্তমূলক অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au