বিশ্ব

ইসরায়েলের নির্বাচনে কে কী বললেন, আর ফলাফলে কার অবস্থান কোথায়?

  • 4:43 am - October 30, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪৬ বার
নাজারেথে জোটটির নির্বাচনী সদর দপ্তরে ইউসেফ জাবারিন [ফাইল: এএফপি]

ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দল বা জোটই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে নেই। প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট ৫৩টি আসন এবং বিরোধী শিবির ৪৮টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, আরব-অধ্যুষিত দলগুলো পেয়েছে ১৯টি আসন, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো পক্ষ। ফলে আরব দলগুলোর সমর্থন, জোট গঠনের আলোচনা এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া নেতাদের প্রতিশ্রুতিগুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করেছেন। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটও নির্বাচনের আগে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা কঠিন হতে পারে।

নির্বাচনে নেতাদের বক্তব্য, প্রচারণার প্রতিশ্রুতি এবং ভোটের ফলাফলের মধ্যে কী ধরনের পার্থক্য দেখা যাচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে নিচে।

নেতানিয়াহু: ‘আরও পাঁচ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকব’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি নির্বাচনের আগে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিল। ২২ অক্টোবর *জেরুজালেম পোস্ট*কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি আরও পাঁচ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে চান।

নির্বাচনের আগে বিরোধীদের আক্রমণ করেও বক্তব্য দেন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাতে জানা যায়, রোববার চ্যানেল ১৪-তে প্রচারিত এক বক্তব্যে নেতানিয়াহু সতর্ক করে বলেন, বিরোধীরা ক্ষমতায় এলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনিকে নাগরিকত্ব দিতে পারে, যা তাঁর ভাষায় ইহুদি রাষ্ট্রের অবসান ঘটাবে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।ফাইল ছবি

নির্বাচনের দিন সমর্থকদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠন করা হবে ‘লজ্জাজনক ও অসম্মানজনক’।

তিনি বলেন, ইসরায়েলকে বিপদের মুখে ফেলা এবং ইহুদিবাদবিরোধী আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকার গঠন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ভোট গণনার পর নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের ভোটদান নিয়েও প্রশ্ন তোলে। দলটির এক বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারী আরব দলগুলো গুরুতর অপরাধের মাধ্যমে নির্বাচন ‘চুরি’ করেছে। তবে অভিযোগগুলোর পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ইসরায়েলের নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলাফল কী বলছে: লিকুদ পার্টি প্রায় ২০ দশমিক ৬৫ শতাংশ ভোট পেয়ে ২৬টি আসন পেতে পারে বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। দলটি এককভাবে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৫৩। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে তা আটটি কম।

গাদি আইজেনকোট: ‘আরব দলগুলোর সঙ্গে আমার নীতির মিল নেই’

বিরোধী শিবিরের নেতা গাদি আইজেনকোট নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। সেপ্টেম্বরে *জেরুজালেম পোস্ট*কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, জনমত জরিপে যে সমর্থন দেখা যাচ্ছে, নির্বাচনে তাঁর জোট তার চেয়ে অনেক বেশি আসন পাবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। আইজেনকোট বলেন, তাঁর নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো আরব দল তিনি দেখছেন না। একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, নেতানিয়াহুকে পরাজিত করার সক্ষমতা এখন তাঁর রয়েছে বলে মনে করছেন।

নির্বাচনের দিন সমর্থকদের উদ্দেশে আইজেনকোট ইসরায়েলকে ‘দেশটির দেখা সবচেয়ে খারাপ সরকার’ থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দিনটিকে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হিসেবে বর্ণনা করেন।

বুধবার সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েলের জনগণ নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। জনগণের এই সিদ্ধান্তকে ইহুদিবাদী সরকার গঠনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

ফলাফল কী বলছে: আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি প্রায় ১৬ দশমিক ১৬ শতাংশ ভোট পেয়ে ২১টি আসন পেতে পারে। তাঁর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা ৪৮, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে ১৩টি কম। আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া এই জোটের পক্ষে ৬১ আসনে পৌঁছানো কঠিন।

নাফতালি বেনেট: ‘৭ অক্টোবরের সরকার বিদায় নিচ্ছে’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দল টুগেদার পার্টি সরকার পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালায়।

নির্বাচনের কয়েক মাস আগে, ফেব্রুয়ারিতে দলের কর্মীদের এক রুদ্ধদ্বার সম্মেলনে বেনেট ২০২১ সালে আরব দল রা’আমের সঙ্গে সরকার গঠনের সিদ্ধান্তের পক্ষে নিজের অবস্থান জানান। তবে এবার একই ধরনের জোট গঠনের পথে হাঁটবেন না বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

ইসরায়েল ন্যাশনাল নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেনেট বলেন, তাঁর নেতৃত্বে একটি ঐক্য সরকার গঠন করা হবে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সেই সরকার প্রতিষ্ঠার ব্যাপারেও তিনি আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

নির্বাচনের দিন তেল আবিবে সমর্থকদের উদ্দেশে বেনেট বলেন, নেতানিয়াহু হেরে গেছেন এবং ৭ অক্টোবরের সরকার বিদায় নিচ্ছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাঁর বক্তব্যে সেই প্রসঙ্গই গুরুত্ব পেয়েছে।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেনেট ইসরায়েলিদের মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি একটি ‘ইহুদিবাদী ঐক্য সরকার’ গঠনে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

ফলাফল কী বলছে: টুগেদার পার্টি প্রায় ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ১২টি আসন পেতে পারে। দলটি প্রত্যাশিত ফল পেলেও এককভাবে সরকার গঠনের মতো অবস্থানে নেই।

ইতামার বেন-গভির: গাজার ফিলিস্তিনিদের নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য

ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী রাজনীতিক ইতামার বেন-গভিরের প্রচারণায় গাজা ও ফিলিস্তিনিদের নিয়ে কঠোর বক্তব্য গুরুত্ব পেয়েছে। তাঁর দল ওতজমা ইয়েহুদিত নিরাপত্তা ও জাতীয়তাবাদী অবস্থানকে সামনে রেখে ভোট চেয়েছে।

আগস্টে এক বক্তব্যে বেন-গভির গাজার ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কে চরম অমানবিক মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সেখানকার কিছু মানুষ বেঁচে থাকার যোগ্য নয় এবং তারা মানুষও নয় বলে তাঁর দাবি। এ ছাড়া গাজায় প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জনকে হত্যা করার আহ্বান জানান তিনি। বক্তব্যগুলো ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে।

নির্বাচনের দিন আরব শহর কাফর কাসিমের প্রবেশপথে সমর্থকদের উদ্দেশে বেন-গভির বলেন, ইসরায়েলকে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র হিসেবে ধরে রাখতে চাইলে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে হবে। তিনি আরব সংসদ সদস্য মানসুর আব্বাস ও আহমদ তিবির হাতে দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন।

ফলাফল কী বলছে: ওতজমা ইয়েহুদিত প্রায় ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়ে সাতটি আসন পেতে পারে। নির্বাচনের আগে বেন-গভিরের লক্ষ্য ছিল ১৫টি আসন। সে তুলনায় তাঁর দল প্রত্যাশার অর্ধেকেরও কম আসন পেতে যাচ্ছে।

বেজালেল স্মোটরিচ: ‘গাজায় ইহুদি বসতি গড়ে তোলা হবে’

ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচের দল ধর্মীয় ইহুদিবাদী রাজনীতির পাশাপাশি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বসতি সম্প্রসারণের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে।

আগস্টে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্মোটরিচ তাঁর বসতি সম্প্রসারণের উদ্যোগ আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন। ফিলিস্তিনিদের ভূমিতে ইহুদি বসতি সম্প্রসারণের পাশাপাশি নেগেভ ও গ্যালিলি অঞ্চলে ইহুদি জনসংখ্যার আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

নির্বাচনের দিন ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বসবাসকারী এলাকাগুলোতে বেশি ভোটার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, ডানপন্থী ভোটারদের কেন্দ্রে আনা না গেলে ‘সন্ত্রাসের সমর্থকেরা’ সরকারে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।

নির্বাচনের রাতে সমর্থকদের উদ্দেশে স্মোটরিচ বলেন, গাজায় ইহুদি বসতি স্থাপন করা হবে।

ফলাফল কী বলছে: ধর্মীয় ইহুদিবাদী দল প্রায় ৪ দশমিক ৭৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ছয়টি আসন পেতে পারে। কট্টর ডানপন্থী এই দলের ফলাফলও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও প্রত্যাশার মধ্যে ব্যবধানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ইউসুফ জাবারিন: ‘ইহুদি-আরব অংশীদারত্বের মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে’

আরব নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট লিস্ট জোটের নেতা ইউসুফ জাবারিন নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু, বেন-গভির ও স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।

আগস্টে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, শক্তিশালী জয়েন্ট লিস্টই নেতানিয়াহু ও তাঁর কট্টর ডানপন্থী মিত্রদের সরকারকে বিদায় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনের রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জাবারিন বলেন, নেতানিয়াহু জানেন যে তাঁর রক্তক্ষয়ী শাসনের অবসান ঘটানোর সক্ষমতা বিরোধীদের রয়েছে।

নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি নেতানিয়াহু সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে নিজের দলের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার শ্রেষ্ঠত্ববাদী রাজনীতি, বর্ণবাদ ও বর্জনের নীতি অনুসরণ করছে।

জাবারিন বলেন, এসব রাজনীতির বিপরীতে তাঁর দল সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিকল্প তুলে ধরছে। সেই বিকল্পের ভিত্তি হবে ইহুদি ও আরব জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রকৃত ও সমান অংশীদারত্ব।

ফলাফল কী বলছে: জয়েন্ট লিস্ট প্রায় ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ ভোট পেয়ে ১২টি আসন পেতে পারে। ভোটের হার অনুযায়ী দলটি তৃতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে।

মানসুর আব্বাস: ‘নেতানিয়াহু ডানপন্থী ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছেন’

আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম দলের নেতা মানসুর আব্বাস নির্বাচনের আগে তাঁর দলের জন্য অন্তত সাতটি আসন পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন। জুলাইয়ে তিনি বলেছিলেন, এই সংখ্যক আসন পেলে পরিবর্তনের পক্ষে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাঁর দল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

নির্বাচনের দিন নেতানিয়াহুর আরব দলবিরোধী বক্তব্যের জবাব দেন আব্বাস। এক ভিডিও বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহু রা’আমকে নিয়ে মিথ্যা প্রচার করছেন এবং দলটির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।

আব্বাসের দাবি, ডানপন্থী ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে আনতেই নেতানিয়াহু আরব দলগুলোকে রাজনৈতিক প্রচারণার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন।

ফলাফল কী বলছে: রা’আম প্রায় ৬ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়ে আটটি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ, আব্বাসের নির্ধারিত সাত আসনের লক্ষ্য ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

আভিগদর লিবারম্যান: ‘আমরা ৬১টি আসন পাব’

ইসরায়েল বেইতেনু দলের নেতা আভিগদর লিবারম্যান নির্বাচনের আগে বিরোধী জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছিলেন।

১৫ অক্টোবর তিনি দাবি করেন, পরিবর্তনপন্থী জোট ৬১টি বা তার বেশি আসন পাবে। নির্বাচনের সময়ও তিনি আশাবাদী অবস্থান বজায় রাখেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও ইতিবাচক চিত্র দেখার জন্য অপেক্ষা করতে বলেন।

ফলাফল কী বলছে: লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু পার্টি প্রায় ৫ দশমিক ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে সাতটি আসন পেতে পারে। ফলে তাঁর নেতৃত্বাধীন দলটি এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারছে না।

ইয়াইর লাপিদ: ‘নেতানিয়াহু মানুষকে ভয় দেখাতে ব্যস্ত’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদও নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করেন। সেপ্টেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহু বিভিন্ন সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন। অথচ নির্বাচনের মাত্র ২৮ দিন আগে তিনি মানুষকে ভয় দেখানোর প্রচারণায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

নির্বাচনের দিন লাপিদ নেতানিয়াহুর জোটের পরাজয় হয়েছে বলে ঘোষণা দেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, নেতানিয়াহুর জোট বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে।

ফলাফল কী বলছে: বেনেটের সঙ্গে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেওয়া টুগেদার পার্টি প্রায় ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ১২টি আসন পেতে পারে। তবে ফলাফল নেতানিয়াহুর জোটকে সরাসরি ক্ষমতা থেকে সরানোর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেনি।

সরকার গঠনে এখন আরব দলগুলো কেন গুরুত্বপূর্ণ?

ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। প্রাথমিক ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি এবং গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম মিলিয়ে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে, যা তাদের জন্য ঐতিহাসিক সাফল্য।

ইসরায়েলের ফিলিস্তিনি নাগরিকদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার উপস্থিতির কারণে আরব দলগুলোর আসনসংখ্যা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ফল তাদের সরকার গঠনের হিসাব-নিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

তবে সমস্যা হলো, নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট দুজনই নির্বাচনের আগে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ওপর নির্ভর করে সরকার গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ফলে আসনসংখ্যার হিসাবে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলেও তাদের সমর্থন গ্রহণের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

নির্বাচনের ফলাফলে লিকুদ পার্টি একক বৃহত্তম দল হিসেবে এগিয়ে থাকলেও নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে আট আসন দূরে। অন্যদিকে, বিরোধী জোটের ঘাটতি ১৩ আসন। এ অবস্থায় আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া বিরোধীদের সরকার গঠন কঠিন হতে পারে।

প্রায় ৫ লাখের বেশি বিশেষ ব্যালট গণনা বাকি থাকায় আসনসংখ্যায় কিছু পরিবর্তন আসতে পারে। এসব ব্যালটের মধ্যে সেনাসদস্য, কূটনীতিক এবং নিজ নিজ নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের আগে তাই বর্তমান আসনবণ্টনকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে।

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে আলোচনা করবেন। এর মধ্যে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সূত্রঃ আল জাজিরা

এই শাখার আরও খবর

পাবনায় রাতের আঁধারে শ্রমিক লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : পাবনার আতাইকুলায় পুষ্পপাড়া হাটে গুলি করে শ্রমিক লীগ নেতাসহ দুজনকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৮টার দিকে হাটের…

ডিসেম্বরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কী ঘটতে যাচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে এবং দেশের কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোতে কার প্রভাব কতটা থাকবে, এই প্রশ্নগুলোকে সামনে রেখে একাধিক সাম্প্রতিক ঘটনাকে বিশ্লেষণ করেছেন লেখক। তাঁর…

জাপানি ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা শেখাতে বাংলাদেশে নতুন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ

জাপানে ও বাংলাদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহী তরুণদের জাপানি ভাষা শেখানো ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে জাপানের প্রতিষ্ঠান ওনোদেরা ইউজার রান এবং…

মেয়াদ শেষ হচ্ছে গঙ্গার পানি চুক্তির, ভারতের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ঢাকা

গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ১২ ডিসেম্বর শেষ হতে যাওয়ায় ভারতের সঙ্গে নতুন চুক্তির আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নতুন চুক্তি না হলে দেশে…

শেখ হাসিনার জাতিসংঘে চিঠি: আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও অর্জনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর আরোপিত অসাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘের…

মন্দিরে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল কেড়ে নিল সজল চক্রবর্তীর জীবন

বরিশালে ভোরে মন্দিরে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সজল কুমার চক্রবর্তী (৬০)। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নগরীর সদর রোডে রাস্তা পার হওয়ার…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au