মেলবোর্ন, ১৯ ডিসেম্বর- এনসিপি নেত্রী জান্নাতারা রুমির মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের প্রস্তুত করা সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয় এবং মৃত্যুর আগে তিনি কোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জান্নাতারা রুমির মাথার চুল কালো এবং আনুমানিক এক ফুট লম্বা। কপাল, ঘাড় ও মাথায় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তার চোখ ও মুখ বন্ধ অবস্থায় ছিল। গলায় অর্ধচন্দ্রাকৃতির একটি কালো দাগ দেখা গেছে। তবে ঠোঁট, নাক ও মুখমণ্ডলে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন ছিল না।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মৃতের দুই হাত শরীরের পাশে লম্বালম্বি অবস্থায় ছিল এবং আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ ছিল। হাত, বুক, ঘাড়, পেট ও পিঠে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। শরীরের অন্যান্য অংশ স্বাভাবিক ছিল। ঊরু, হাঁটু ও পা স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল এবং সেখানেও কোনো আঘাতের আলামত মেলেনি।
পুলিশ জানায়, জান্নাতারার আত্মীয়-স্বজনদের উপস্থিতিতেই সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার মরদেহ স্বজনরা নওগাঁয় নিয়ে যান।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, জান্নাতারা রুমি তার কক্ষে ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে তারা।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর জিগাতলা পুরান কাঁচাবাজার এলাকায় জান্নাতী ছাত্রী হোস্টেলের পঞ্চম তলার একটি কক্ষের দরজা ভেঙে জান্নাতারার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের (ধানমন্ডি থানা) সমন্বয় কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক জানান, পারিবারিক কলহ ও কিছু ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জান্নাতারা রুমি বেশ কিছুদিন ধরে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। সেই হতাশা থেকেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটতে পারে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে