রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?
সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…
মেলবোর্ন, ২০ ডিসেম্বর- ছাত্র আন্দোলনের নেতা শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ভোর থেকে বাংলাদেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ, গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা ও সড়ক সংঘর্ষের ঘটনায় দেশজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক হাদির হত্যাকাণ্ডে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত, নিরপেক্ষ, পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এই হত্যার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, হাদির পরিবার ২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলনের সূচনাস্থল শাহবাগে তার স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে। এদিকে সহিংস বিক্ষোভের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে ভারতীয় মিশনের দিকে পাথর নিক্ষেপ করা হয় বলে জানিয়েছে দেশীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।
সিঙ্গাপুর থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফ ওসমান হাদির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ইনকিলাব মঞ্চের জ্যেষ্ঠ নেতা শরিফ ওসমান হাদি আগামী জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারণা চালানোর সময় গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস হাদির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে একে হৃদয়বিদারক বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নির্ভীক সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি আর আমাদের মাঝে নেই। এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে ইউনূস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি জনসাধারণকে ধৈর্য ও সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানান।
হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা ঢাকায় প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ভবন জ্বলতে দেখা যায়। ভেতরে থাকা সাংবাদিক ও কর্মীরা আতঙ্কে ভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। পরিস্থিতির কারণে পত্রিকাগুলোর ছাপা ও অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ বন্ধ হয়ে যায়।
প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ বলেন, সমাজে জমে থাকা ক্ষোভকে কিছু দুর্বৃত্ত সংবাদমাধ্যম ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার ভাষায়, ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম ২৭ বছরে প্রথম আলো প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। তিনি একে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।
এদিকে সহিংসতার মধ্যেই ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক তরুণ হিন্দু পোশাকশ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনটি জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে কথিত ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মারাত্মক হুমকি।
বাংলাদেশে ভারতীয় কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোর সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুর। তিনি বলেন, বিদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক সরকারের দায়িত্ব এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে দুই দেশকেই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।
চীনও চলমান অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, তারা বাংলাদেশে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়। চীনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে জাতীয় সংহতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
ঢাকা ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়েছে, পরিবারের অনুরোধে শরিফ ওসমান হাদিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হবে।
সূত্রঃ হিন্দুস্তান টাইমস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au