জনতার জবানবন্দি: ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের দুঃশাসনে জাতি যা হারিয়েছিল
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত—৫৪৭ দিন। ইউনূস সরকার এই ১৮ মাসের বেশি সময় ধরে দুঃশাসন চালিয়েছিল। “সংস্কার” এর নামে…
মেলবোর্ন, ২১ ডিসেম্বর- দেশের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ছায়ানট ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ধানমন্ডি থানায় মামলাটি দায়ের করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এতে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে একই রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় রোববার সকাল পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈনু জানান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করে অভিযোগ দেবে বলে পুলিশকে জানিয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর খবরে ক্ষোভ ও বিক্ষোভের মধ্যেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছায়ানট ভবনে হামলা চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল মিছিল নিয়ে এসে প্রথমে পার্কিং লটে আগুন দেয়। এরপর ভবনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়।
হামলার সময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’, ‘নারায়ে তাকবীর’, ‘ভাঙো’, ‘ভারতের দালাল’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় হামলাকারীদের। প্রয়াত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সন্জীদা খাতুনের প্রতিকৃতি কেটে নষ্ট করার সময় তাকে ‘নাস্তিক’ বলে সম্বোধন করা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ভবনের ভেতরে ঢুকে মিলনায়তন ও বিভিন্ন কক্ষে তাণ্ডব চালানো হয়। তবলা, হারমোনিয়াম, তানপুরা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়, কিছু যন্ত্র পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বই, কাগজপত্র তছনছ করা হয়। পুরো মনিটরিং সিস্টেম, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্পিকার, লাইট ও ফ্যান ভেঙে দেওয়া হয়। মাটির তৈরি শিল্পকর্ম, চারুকর্ম এবং অধিকাংশ কক্ষ ও অফিস রুমের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষও হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি। আলমারির কাচ ভেঙে ফেলা হয়, চেয়ার ও টেবিল ওলটপালট করা হয়। রমেশ চন্দ্র স্মৃতি মিলনায়তন, মূল মিলনায়তন এমনকি শৌচাগারেও ভাঙচুর চালানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীদের একটি অংশ পরিকল্পিতভাবে লুটপাটে জড়ায়। তারা বিভিন্ন কক্ষের ড্রয়ার ভেঙে টাকা-পয়সা খোঁজে এবং বাদ্যযন্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায়।
রাত আড়াইটার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভবনের নিয়ন্ত্রণ নেন। তার আগেই দেশের সংস্কৃতিচর্চার অন্যতম বড় এই প্রতিষ্ঠানটি হামলাকারীদের তাণ্ডবে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ ঘটনার পর ছায়ানট ভবনে পরিচালিত ছায়ানট সঙ্গীতবিদ্যায়তনের সব ক্লাসসহ সংগঠনের সকল কার্যক্রম পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
একই রাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের কার্যালয় এবং উত্তরা এলাকায় এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।
ধানমন্ডি থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au