চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৩ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ এবং ময়মনসিংহে পোশাকশ্রমিক দীপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে ভারতের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ জোরালো হয়েছে। এর জেরে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেবাকেন্দ্র ঘেরাও করা হলে সোমবার সেখানকার ভিসা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। একই সঙ্গে ত্রিপুরার আগরতলা, আসামের গুয়াহাটি এবং দিল্লিতেও বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা স্থগিত করা হয়েছে। দিল্লি ও কলকাতার কূটনৈতিক সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, সোমবার শিলিগুড়িতে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এবং শিলিগুড়ি মহানগর সংগঠনের সদস্যরা বাঘাযতীন পার্কে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলাদেশের ভিসা কেন্দ্রের সামনে পৌঁছান। মিছিলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ, দীপু দাস হত্যার বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ভিসা সেন্টারের সামনে পৌঁছে বিক্ষোভকারীরা কেন্দ্রটি ঘেরাও করে অবস্থান নেন। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ভিসা অফিসে প্রবেশ করে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রতিবাদস্বরূপ ভিসা কার্যক্রম বন্ধ রাখার দাবি জানান। পরিস্থিতির অবনতি আশঙ্কায় ওই দিন শিলিগুড়ির ভিসা কেন্দ্রের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে দুপুর ও বিকেলের দিকে শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত ফ্লেক্স ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হয়। তখনই আন্দোলনকারীরা ভিসা সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার হুমকিও দেন।
ময়মনসিংহে দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে একই দিন দুপুরে শিলিগুড়ির বাঘাযতীন পার্কে কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে সেখান থেকে মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ভিসা সেন্টারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ বাংলাদেশের পতাকা সংবলিত ফ্লেক্স টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ড. ইউনূসের কুশপুত্তলিকাতেও আগুন দেওয়া হয়।
একই দিন ত্রিপুরার আগরতলায় অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনেও কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই সেবা বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া আসামের গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের ভিসা কার্যক্রমও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
কলকাতাতেও সোমবার বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সামনে তিন দফায় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে ‘নাস্তিক মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ বিষয়ে কলকাতায় উপ-হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তা জানান, আগেই পুলিশকে নোট ভার্বাল পাঠানো হয়েছিল। ফলে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। ভারতীয় সময় দুপুরের দিকে বিক্ষোভকারীরা উপ-হাইকমিশন চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরে তারা চত্বর থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে অবস্থান নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে স্মারকলিপি দিয়ে চলে যায়।
এরপর জাতীয় কংগ্রেসের কর্মীরা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ করেন। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উপ-হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের ক্ষোভ ও দাবি তুলে ধরে। পরে বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে ‘হিন্দু সনাতনীরা’ নামে একটি দল বিক্ষোভে অংশ নেয়। পুলিশ বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভে কয়েকজন হিন্দু সাধুও অংশ নেন। প্রায় এক ঘণ্টা কলকাতার বেকবাগান মোড়ে সড়ক অবরোধ করে রাখা হয়। এ সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া হয় বলে জানায় স্থানীয় সূত্র।
দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে রোববারও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই দাবিতে দিল্লি ও ত্রিপুরাতেও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
এদিকে সোমবার দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশন থেকে সব ধরনের কনস্যুলার সেবা ও ভিসা প্রদান স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এসব সেবা বন্ধ থাকবে বলে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au