রহস্যজনক আগুনে পুড়ে ছাই সাহা পরিবারের তিন বাড়ি। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ ডিসেম্বর- পিরোজপুর সদর উপজেলার পশ্চিম ডুমরিতলা গ্রামে ভোরবেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাহা পরিবারের তিনটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে কোনো প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও কয়েকটি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে যাওয়ায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন পলাশ কান্তি সাহা, শিব সাহা, দীপক সাহা, শ্যামলেন্দু সাহা ও অশোক সাহা। ভুক্তভোগীরা জানান, আগুনে ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, কাপড়চোপড়, নগদ অর্থসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সাহা পরিবারের পলাশ কান্তি সাহার পরিবারের সদস্যরা বেড়াতে বাইরে ছিলেন। পলাশ নিজেও আগের রাতে পিরোজপুর শহরে অবস্থান করছিলেন। ভোরের দিকে পরিবারের বৃদ্ধ সদস্য সন্ধ্যা সাহা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে গিয়ে ফিরে আসার সময় পলাশ কান্তি সাহার তালাবদ্ধ ঘর থেকে আগুন জ্বলতে দেখেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। তবে ততক্ষণে আগুন দ্রুত পাশের আরও দুটি ঘরে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে তিনটি ঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পিরোজপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দীর্ঘ চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণভাবে নির্বাপণ করা হয়।
ভুক্তভোগী পলাশ কান্তি সাহা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। ভোরে ফোন পেয়ে দ্রুত বাড়িতে এসে দেখেন তার ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে এবং ফায়ার সার্ভিস আগুন নেভানোর কাজ করছে। তিনি বলেন, ঘরের ভেতরে তার সবকিছুই ছিল। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তিনি জানেন না।
শিব শংকর সাহার মা সন্ধ্যা সাহা বলেন, ভোরে বাথরুমে গিয়ে ফিরে এসে পাশের ঘরে আগুন জ্বলতে দেখেন। তখন ওই ঘরে কেউ ছিলেন না। তিনি চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলেও ততক্ষণে আগুন তাদের ঘরেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আমাদের সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। সরকার যদি আমাদের সহায়তা না করে, তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
পিরোজপুর ফায়ার স্টেশনের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর যুগল বিশ্বাস জানান, ভোর ৬টা ৪৮ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাত কারণে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। রহস্যজনক এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।