সরকার চায় ঐক্য, একটি মহল ছড়াচ্ছে বিভ্রান্তি: প্রধানমন্ত্রী
দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে চায় সরকার। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল দেশে বিভ্রান্তি ছড়ানোর…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের শীর্ষ কূটনীতিক মোল্লা নুর আহমদ নুর, যিনি মোল্লা জাওয়ান্দি নামে পরিচিত, এক সপ্তাহ ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। সরকারি কোনো ঘোষণা ছাড়াই রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন কওমি মাদ্রাসা সফর, বৈঠক ও সমাবেশে অংশ নেওয়ায় তার সফর ঘিরে নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, মোল্লা জাওয়ান্দির সফর সম্পর্কে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়নি। তবে তার গতিবিধির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, সরকারকে জানিয়ে তালেবান সরকারের কোনো শীর্ষ প্রতিনিধি বাংলাদেশে এসেছেন- এমন তথ্য তাদের কাছে নেই। ঢাকায় আফগান দূতাবাসও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
তালেবান সরকারের এশিয়াবিষয়ক নীতিনির্ধারণে মোল্লা জাওয়ান্দিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, বাংলাদেশে এই সফরে তিনি খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ কয়েকজন রাজনীতিক ও শিক্ষাবিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের সন্দেহভাজন একাধিক শীর্ষ নেতাকেও তার আশপাশে দেখা গেছে বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানিয়েছে।
গত ২১ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৪৫ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান মোল্লা জাওয়ান্দি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ-আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান আবু সায়েম খালেদ। সফরকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার জামিয়া কারামিয়া মাদ্রাসা, রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদ্রাসা এবং মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানে যান।

মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেন মোল্লা জাওয়ান্দি। সংগৃহীত ছবি
২৫ ডিসেম্বর মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসায় মোল্লা জাওয়ান্দির সঙ্গে বৈঠক করেন মাওলানা মামুনুল হক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক। মাহফুজুল হক জানান, বৈঠকটি পূর্বনির্ধারিত ছিল না এবং মোল্লা জাওয়ান্দি যে বাংলাদেশে আছেন, সেটিও তিনি আগে জানতেন না।
এদিকে শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘ব্লুপ্রিন্ট অব দ্য ইসলামিক এমিরেট’ শীর্ষক একটি সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আয়োজক ছিল আবু সায়েম খালেদের নেতৃত্বাধীন বিএসিসিআই। সমাবেশে মোল্লা জাওয়ান্দির উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি সেখানে যাননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং সেখানে হুজি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষক ও কূটনীতিকরা বলছেন, নাজুক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এমন একটি সফর উদ্বেগজনক। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও কূটনীতি বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে তালেবান সরকারের শীর্ষ প্রতিনিধির অবাধ চলাচল ও বৈঠক বাংলাদেশের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তার মতে, এই সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় মোল্লা জাওয়ান্দির ঢাকা সফর ঘিরে প্রশ্ন ও উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সুত্রঃ বাংলাস্ট্রিম
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au