আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৯ ডিসেম্বর- সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন শহরে আলাউইত জনগোষ্ঠীর বিক্ষোভ চলাকালে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। রোববার এ সহিংসতা ঘটে বলে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। গত শুক্রবার হোমস প্রদেশে আলাউইত জনগোষ্ঠীর একটি মসজিদে বোমা হামলায় আটজন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়।
রোববার সিরিয়ার পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের একাধিক প্রদেশে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। বিক্ষোভের ডাক দেন আলাউইতদের আধ্যাত্মিক নেতা গাজাল গাজাল। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এই আলাউইত সম্প্রদায়েরই একজন সদস্য ছিলেন।
যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, আলাউইত–অধ্যুষিত লাতাকিয়া প্রদেশে বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। পরে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা লাতাকিয়ার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাতে জানায়, শহরে বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষের ওপর সাবেক সরকারের অবশিষ্ট অংশের হামলায় মোট তিনজন নিহত এবং অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন।
লাতাকিয়া ও উপকূলীয় শহর জাবলেহ থেকে এএফপির সংবাদদাতারা জানান, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সিরিয়ার নতুন ইসলামপন্থী সরকারের সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করেন এবং আকাশে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে সরকারপন্থী সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতেও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে লাতাকিয়ার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল আজিজ আল আহমাদ জানান, বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করেও অজ্ঞাত স্থান থেকে সরাসরি গুলি চালানো হয়। এতে বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা সদস্য আহত হয়েছেন।
সিরিয়ান অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, লাতাকিয়ার পাশাপাশি হোমস প্রদেশেও সহিংসতার ঘটনা ঘটে। সেখানে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ‘সারায় আনসার আল সুন্না’ নামের একটি সুন্নি চরমপন্থী গোষ্ঠী শুক্রবার আলাউইত জনগোষ্ঠীর মসজিদে বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছে। বাশার আল আসাদের পতনের পর থেকে আলাউইতসহ সিরিয়ার অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত মার্চে আলাউইত–অধ্যুষিত উপকূলীয় এলাকায় ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। সিরিয়ার জাতীয় কমিশনের এক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সহিংসতায় অন্তত ১ হাজার ৪২৬ জন আলাউইত নিহত হন। তবে সিরিয়ান অবজারভেটরির দাবি, নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার প্রতিক্রিয়াতেই ওই সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল।
এছাড়া গত জুলাইয়ে দক্ষিণাঞ্চলের দ্রুজ সংখ্যালঘু–অধ্যুষিত সুয়েইদা প্রদেশেও ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। সিরিয়ান অবজারভেটরির হিসাব অনুযায়ী, সেখানে প্রাণ হারান দুই হাজারের বেশি মানুষ।
আলাউইতদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে গত মাসের শেষ দিকে হোমসসহ বিভিন্ন প্রদেশে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। মার্চের হত্যাযজ্ঞের আগেও আলাউইত জনগোষ্ঠীর বহু মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তখন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়, তাঁরা বাশার আল আসাদের সমর্থক।
মসজিদে বোমা হামলার পর শনিবার এক ভিডিও বার্তায় গাজাল গাজাল বিক্ষোভের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্বকে দেখাতে হবে যে আলাউইত জনগোষ্ঠীকে অবমাননা করা বা কোণঠাসা করে রাখা যাবে না। ইসলামিক আলাউইত কাউন্সিলের প্রধান গাজাল গাজাল ফেসবুকে দেওয়া ওই বার্তায় বলেন, তারা গৃহযুদ্ধ চান না, বরং কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, তারা সন্ত্রাস নয়, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরা নির্ধারণের অধিকার চান।
লাতাকিয়ায় বিক্ষোভকারীরা গাজাল গাজালের ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন এবং বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে তাঁর প্রতি সমর্থন জানান। অনেক ব্যানারে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য বন্ধ করা, নাগরিক ও সাবেক সেনাদের বেতন পরিশোধ এবং আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলে ধরা হয়।
সংঘর্ষের আগে লাতাকিয়ায় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৪৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী নুমেইর রামাদান প্রশ্ন তোলেন, কেন এই হত্যা, গুপ্তহত্যা ও অপহরণ চলছে। তিনি বলেন, আসাদ চলে গেছেন, তাঁরা আসাদকে সমর্থনও করেন না, তবুও কেন এই সহিংসতা।
রোববার ইসলামিক আলাউইত কাউন্সিল এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, কর্তৃপক্ষ নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে, যারা কেবল তাদের বৈধ অধিকার আদায়ের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিল। একই সঙ্গে উত্তেজনা এড়াতে সমর্থকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
সিরিয়ার জনসংখ্যার বেশির ভাগই সুন্নি মুসলিম। হোমস প্রদেশে সুন্নিরা সংখ্যাগুরু হলেও সেখানে আলাউইত–অধ্যুষিত এলাকাও রয়েছে। আলাউইতদের ধর্মীয় বিশ্বাস শিয়া ইসলাম থেকে উদ্ভূত।
রোববারের বিক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিও ওঠে। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, লাতাকিয়ায় ৭০ জন বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, কারণ তাঁরা যুদ্ধাপরাধে জড়িত নন বলে প্রমাণিত হয়েছে। নির্দোষ প্রমাণিত হলে আরও বন্দীকে মুক্তি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
বাশার আল আসাদের পতনের পর আহমেদ আল শারা অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তাঁর সরকার দাবি করছে, সিরিয়ার সব সম্প্রদায়কে সুরক্ষা দেওয়া হবে। তবে নতুন ইসলামপন্থী সরকারের এই আশ্বাসে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছে না। তারা ফেডারাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য চাইলেও কেন্দ্রীয় সরকার এখনো সে দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
সূত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au