পারেদেসকে লাল কার্ড দেওয়ার খবর নাকচ করলো ফিফা
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়েন্দ্রো পারেদেসকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে বলে যে খবর ছড়িয়ে…
মেলবোর্ন ৩১ ডিসেম্বর- সংসদ ভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। কিছুটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে শেষ বিদায় প্রত্যক্ষ করেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। এ সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়। স্বামীর সমাধির কাছাকাছি পৌঁছালে সেনা ও নৌবাহিনীর সদস্যরা কফিন কাঁধে তুলে কবরে নিয়ে যান। ধর্মীয় রীতি ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সেখানে দাফন সম্পন্ন হয়।
দাফনের আগে বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হয় খালেদা জিয়ার জানাজা। এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ-জামান, বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং লাখো মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে তারেক রহমান মায়ের জন্য দোয়া চান এবং তার পক্ষ থেকে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্যন্ত্র ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে দেশে ফিরলেও পরে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন।
গৃহবধূ থেকে রাজনীতির শীর্ষে উঠে চার দশকের বেশি সময় বিএনপির নেতৃত্ব দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন তিনি। তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে দৃঢ় অবস্থানের কারণে তিনি পরিচিতি পান ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে।
স্বামী জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৮১ সালে সংকটকালে বিএনপির হাল ধরেছিলেন খালেদা জিয়া। ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে রাজনীতি করার নীতিতে অবিচল থাকা এই নেত্রীর মৃত্যুতে শুধু তার দল নয়, পুরো দেশই হারাল এক দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের সাক্ষী।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au