ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে মোবাইল ব্যবসা–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
মেলবোর্ন, ২ জানুয়ারি- ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে মোবাইল ফোন আমদানি ও বিক্রয়–সংক্রান্ত সব দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে সংগঠনটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম মোল্লা জানান, মোবাইল আমদানিতে করহার সহনীয় পর্যায়ে নামানো, এনইআইআর কার্যক্রম স্থগিত বা সংস্কার, এনওসি প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আটক ব্যবসায়ীদের মুক্তি এবং দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে দোকান বন্ধ থাকবে।
শামীম মোল্লা বলেন, মোবাইল আমদানিতে বিটিআরসি নির্ধারিত একাধিক এনওসি প্রক্রিয়া ব্যবসায়ীদের জন্য জটিল ও সময়সাপেক্ষ। একই সঙ্গে বর্তমান করহার ব্যবসা টিকিয়ে রাখার মতো নয়। তাদের দাবি অনুযায়ী, মোবাইল আমদানিতে মোট করহার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ হওয়া উচিত। পাশাপাশি ব্যবহৃত বা ইউজড মোবাইল ফোন আমদানির জন্য আলাদা নীতিমালারও দাবি জানান তিনি।
তিনি জানান, এসব দাবিতে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিটিআরসির সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় প্রথমে ছয় মাস এবং পরে তিন মাসের একটি ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে করসংক্রান্ত কোনো সমস্যার সমাধান ছাড়াই এনইআইআর চালু করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বিটিআরসি চেয়ারম্যান একাধিকবার কর ইস্যুর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এনইআইআর কার্যকর না করার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত তা মানা হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে এ বিষয়ে ফোনে আলোচনা হলেও সেদিনই এনইআইআর চালু করা হয়।
শামীম মোল্লার দাবি, এনইআইআর কার্যকর হওয়ার পর অনেক গ্রাহকের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়, যা বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি করে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার চেষ্টা করলে বৈঠক না হওয়ায় তারা ভবন ত্যাগ করেন। এরপর বিটিআরসি ভবনের পূর্ব পাশে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ীরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও নিরাপত্তার কারণে এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে এবং ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারও তাদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি।
মোবাইল আমদানিতে শুল্ক কমানোর সাম্প্রতিক ঘোষণার বিষয়ে তিনি বলেন, করহার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪৩ শতাংশ করা হলেও তা এখনও অত্যন্ত বেশি। অন্য কোনো খাতে এত উচ্চ করহার নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত সব ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেইজে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ব্যবস্থার লক্ষ্য অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা।
তবে ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের ফলে দেশের মোবাইল বাজারে নতুন করে অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সে দিকে তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।