গ্রিনসকে অন্তর্ভুক্ত করার শর্তে চার দলের নেতাদের বিতর্কে রাজি জেস উইলসন
লেবার ও ওয়ান নেশন নেতাদের সঙ্গে বিতর্কে অংশ নিতে সম্মতি জানিয়েছেন ভিক্টোরিয়ার লিবারেল পার্টির নেতা জেস উইলসন। তবে তাঁর শর্ত, বিতর্কে গ্রিনস পার্টিকেও রাখতে হবে।…
ভারতের সঙ্গে পঞ্চম কনস্যুলার সংলাপে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানাবে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদেরও প্রত্যর্পণ চাইবে ঢাকা।
আগামী ১৭ ও ১৮ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পঞ্চম কনস্যুলার সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে এসব বিষয় উত্থাপন করবে বাংলাদেশ। ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য ডেইলি স্টার।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বিষয়টি তুলতে যাচ্ছে ঢাকা।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো কূটনৈতিক নোট ভারবালের মাধ্যমে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানায় বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে তাঁদের মৃত্যুদণ্ডের রায় হওয়ার পর আবারও সেই অনুরোধ জানানো হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে গণ-অভ্যুত্থানের মুখে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর থেকে শেখ হাসিনা সেখানেই অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁদের অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এক কূটনীতিক জানান, মহাপরিচালক পর্যায়ের এই সংলাপের জন্য ভারত ১৭ ও ১৮ নভেম্বরের প্রস্তাব দেয় এবং তাতে সম্মতি জানায় বাংলাদেশ। ঢাকা প্রথমে অক্টোবরের শেষ দিকে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে দুর্গাপূজার আয়োজনের কারণে ভারত নভেম্বর মাসকে বেছে নেয়।
সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরকে সামনে রেখে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবেই এবারের সংলাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে অক্টোবরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যবিষয়ক আলোচনাও হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “কনস্যুলার সংলাপে ভারতে আশ্রয় নেওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণের বিষয়টি তুলবে ঢাকা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তরা।”
সীমান্ত, ভিসা ও বন্দি প্রত্যাবাসনও আলোচনায়
প্রত্যর্পণের পাশাপাশি সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ভারত থেকে বাংলাদেশে কথিত ‘পুশ-ইন’, ভিসা কার্যক্রম, আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরত পাঠানো, জেলেদের মুক্তি এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা চুক্তি নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রতি ছয় মাস অন্তর বাড়ানো সংশোধিত ভ্রমণ ব্যবস্থা বা রিভাইজড ট্রাভেল অ্যারেঞ্জমেন্ট (আরটিএ) নবায়নের বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
জেলেদের দেশে ফেরত পাঠানো ভারতের কাছে অগ্রাধিকার পাচ্ছে। ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ প্রক্রিয়া দ্রুত করতে নয়াদিল্লি বাংলাদেশের কাছে একটি খসড়া প্রটোকল পাঠিয়েছে।
সংলাপে ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা বিভাগের যুগ্ম সচিব এশা শ্রীবাস্তব। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের মহাপরিচালক শাহ আসিফ রহমান।
২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংলাপে কনস্যুলার বিষয়, ভিসা প্রক্রিয়া এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে চার দফা সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকটি হয় ২০২৪ সালের মে মাসে নয়াদিল্লিতে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au