ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানে নিহত অন্তত ৪০। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৪ জানুয়ারি- ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে চালানো মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিক ও সেনাসদস্যসহ অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেনেজুয়েলার একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অভিযানে সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, স্থলবাহিনী নামানোর আগে ভেনেজুয়েলার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করতে বড় পরিসরে বিমান অভিযান চালানো হয়। এতে ১৫০টিরও বেশি মার্কিন বিমান অংশ নেয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের পর সামরিক হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মাদুরোর অবস্থানস্থলে সেনা নামানো হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে নিহতের সংখ্যা বা পুরো অভিযানের ব্যাপ্তি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হোয়াইট হাউস কিংবা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকার নীরব থাকায় আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এর আগে শনিবার ভোরে চালানো ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের পর এক ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলায় একটি নিরাপদ, যথাযথ ও বিচক্ষণ অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শাসনভার তদারকি করবে।
এদিকে নিউইয়র্কের একটি আদালতে প্রসিকিউটরদের দাখিল করা নতুন অভিযোগপত্রে মাদুরো দম্পতির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই সামরিক অভিযানের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। বিভিন্ন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার সংগঠন বলছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং মার্কিন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে এমন অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে ভেনেজুয়েলাসহ পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।