এনসিপি নেতা সারজিস আলম। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ লক্ষ্যে তিনি নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নসংক্রান্ত হলফনামা জমা দিয়েছেন। তবে সেই হলফনামা ও দাখিল করা আয়কর রিটার্নে তার আয় ও সম্পদের তথ্য নিয়ে অসঙ্গতির বিষয় সামনে এসেছে।
২৭ বছর বয়সী সারজিস আলম হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে ব্যবসাকে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি ব্যবসা থেকে বছরে আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ টাকা। কিন্তু একই সময়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্নে তার বার্ষিক আয় উল্লেখ করা হয়েছে ২৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। অর্থাৎ হলফনামায় দেখানো আয়ের তুলনায় রিটার্নে প্রায় তিনগুণ বেশি আয়ের তথ্য রয়েছে। একই ব্যক্তির আয় নিয়ে দুই নথিতে ভিন্ন তথ্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
আয়ের পাশাপাশি সম্পদের হিসাবেও গরমিল ধরা পড়েছে। আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সারজিস আলমের মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৩ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় তার সম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম দেখানো হয়েছে।
হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে নগদ ৩ লাখ ১১ হাজার ১২৮ টাকা এবং ব্যাংকে জমা এক লাখ টাকা। এ ছাড়া ৭৫ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও ৭৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। হলফনামায় কোনো স্বর্ণালংকার থাকার তথ্য দেননি সারজিস আলম।
স্থাবর সম্পদের হিসাবে তিনি দানসূত্রে পাওয়া সাড়ে ১৬ শতাংশ কৃষিজমির কথা উল্লেখ করেছেন। ওই জমির অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হলেও বর্তমানে এর আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে হলফনামার হিসাবে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ মিলিয়ে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকা।
একই ব্যক্তির হলফনামা ও আয়কর রিটার্নে আয় ও সম্পদের এমন ভিন্ন তথ্য নির্বাচনসংক্রান্ত স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।