অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ জানুয়ারি- ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার কোনো নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতি বা বাণিজ্যে পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে কিছুটা টানাপড়েন থাকলেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে।
মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা জানান, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুঃখজনক হলেও তা অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে না।
মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এর সূচনা বাংলাদেশ করেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ড. সালেহউদ্দিন বলেন, একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও জনপ্রিয় খেলোয়াড় স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় খেলতে যাওয়ার কথা ছিল। তাকে দয়া করে নেওয়া হয়নি, বরং পেশাদারভাবেই তিনি খেলতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করা অপ্রত্যাশিত এবং দুঃখজনক। এ ধরনের ঘটনা দুই দেশের কারও জন্যই ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপড়েন অর্থনীতি বা বাণিজ্যে প্রভাব ফেলবে কি না জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, এখানে মূলত আবেগের বিষয় কাজ করেছে। তিনি মনে করেন, দুই পক্ষই বিষয়টি বিবেচনায় নেবে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্পর্কের অবনতি চাওয়া হয় না বলেও জানান তিনি।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, মুস্তাফিজ একজন শীর্ষ মানের খেলোয়াড়, এটা সবাই স্বীকার করে, তারাও স্বীকার করে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা পুরোপুরি উপযুক্ত। কেউ যদি এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তার প্রতিক্রিয়া হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা বলেন, প্রতিটি ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। তিনি বলেন, ভারতীয় পক্ষ বাংলাদেশি খেলোয়াড়কে ডেকে নিয়ে পরে প্রত্যাহার করেছে। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশ যে অবস্থান নিয়েছে, তা সঠিক ও যৌক্তিক। বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তনের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিদ্যুৎ উপদেষ্টা আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়া শুধু দেশীয় পর্যায়েই নয়, ভারতের ভেতরেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তিনি জানান, ভারতীয় সংসদের একজন সদস্যও প্রকাশ্যে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ ঠিক হয়নি। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, যেখান থেকে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেখানেই শুভবুদ্ধির উদয় হবে। ভবিষ্যতে দুই দেশই খেলার সম্পর্ক বজায় রাখবে এবং একই সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কও স্বাভাবিকভাবে চলবে।