এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ৯ জানুয়ারি: ভিক্টোরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে। নিয়ন্ত্রণহীন আগুনে একের পর এক শহর ও গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, আর একটি শহর কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি এখনো বিপদমুক্ত নয়।
চরম তাপপ্রবাহ ও ঘণ্টায় প্রায় ৯০ কিলোমিটার বেগের ঝড়ো হাওয়া দাবানলকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে ৭০ হাজারের বেশি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন। শত শত দমকলকর্মী প্রচণ্ড গরমে আগুন নিয়ন্ত্রণে মরিয়া লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

হাজারো মানুষ বিদ্যুৎহীন, তিনজন নিখোঁজ আগুনে বিধ্বস্ত এলাকায়। ছবি: সংগৃহীত
এ পর্যন্ত তিনজন নিখোঁজ, বহু ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে এবং এক দমকলকর্মী গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
ভিক্টোরিয়ার ন্যাশনাল পার্কগুলোতে ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে ১৫০০-এর বেশি পার্ক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে,
“যেসব এলাকায় দাবানল ঝুঁকি ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’, সেখানে পার্কগুলো বন্ধ থাকবে। এই অবস্থায় পার্কে প্রবেশ বা ক্যাম্প করা জীবননাশের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।”
শুক্রবার সন্ধ্যায় Country Fire Authority (CFA) প্রধান জেসন হেফারনান জানান, লংউডের আগুন এখনো রাজ্যের সবচেয়ে বড় ও বিপজ্জনক দাবানল। মেলবোর্নের উত্তরের বেশ কয়েকটি শহরে জরুরি সতর্কতা জারি রয়েছে।
“আমরা এখনো নিরাপদ নই,” তিনি বলেন।
“আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে বাতাসের দিক বদলালে আগুন নতুন ও অনিশ্চিত দিকে ছড়িয়ে পড়তে পারে।”
ভিক্টোরিয়ার প্রিমিয়ার জাসিন্তা অ্যালান মানুষকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়ে বলেন,
“আগামী কয়েকটি দিন ও রাত আমাদের দমকলকর্মীদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হতে যাচ্ছে। এখন স্থানীয় রেডিও, VicEmergency অ্যাপ ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

ন্যাশনাল পার্ক ও পর্যটন এলাকা বন্ধ, নিরাপত্তাই এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ছবি: সংগৃহীত
লংউডের কাছাকাছি দ্রুতগতির ঘাসের আগুন মার্টন, আইলডন, আলেক্সান্দ্রা ও আশপাশের জনপদে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানায়,
“যেসব এলাকায় এখনো জরুরি সতর্কতা জারি হয়নি, তাদের অবিলম্বে আগুন থেকে বাঁচার পরিকল্পনা চালু করে সরে যেতে হবে। দেরি করলে জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।”
রাফিতে আগুন নেভাতে গিয়ে এক দমকলকর্মীর হাত তৃতীয় ডিগ্রির দগ্ধে আক্রান্ত হয়েছে। তাকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে মেলবোর্নের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
“এটা আমাদের দমকলকর্মীদের প্রতিদিনকার বিপদেরই প্রমাণ,” বলেন CFA প্রধান।
বজ্রপাতের কারণে রাজ্যজুড়ে ডজনের বেশি নতুন আগুন জ্বলে উঠেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, প্রায় ৪০টি দাবানল সক্রিয় রয়েছে, যার মধ্যে দু’টি অত্যন্ত বিপজ্জনক।
লংউডের আগুনে টারকম্ব ওয়াইল্ডলাইফ শেল্টার সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আশ্রয়কেন্দ্রের পরিচালক ডা. রবিন কয় ছয়টি ক্যাঙ্গারু শাবক নিয়ে একটি জলাশয়ে আশ্রয় নিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন, কিন্তু বহু প্রাণী, ঘরবাড়ি ও সরঞ্জাম আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে।

লংউডের দাবানলে টারকম্ব অ্যানিমাল শেল্টার সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় মালিক রবিন কয় ছয়টি ক্যাঙ্গারু শাবক নিয়ে একটি জলাধারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ছবি: সংগৃহীত
লংউড ইস্টে একটি বাড়ির সামনে শেষবার দেখা যাওয়া এক পুরুষ, এক নারী ও এক শিশু এখনো নিখোঁজ। পরে সেই বাড়িটি পুরোপুরি পুড়ে যেতে দেখা যায়। এলাকা এখনো এতটাই উত্তপ্ত যে উদ্ধারকারী দল ঢুকতে পারেনি।
ভিক্টোরিয়া পুলিশ জানিয়েছে,
“আমরা জানি না তারা কোথায়। ওই এলাকা এখনো মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।”
ফেডারেল ও ভিক্টোরিয়া সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৬৮০ ডলার এবং প্রতিটি শিশুর জন্য জরুরি খরচ মেটাতে ৩৪০ ডলার দেওয়া হবে ।
ফেডারেল মন্ত্রী ক্রিস্টি ম্যাকবেইন বলেন,
“এই ভয়াবহ সময়ে মানুষকে জরুরি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। সরকার দ্রুত সহায়তা চালু করেছে।”
রাফি শহরের CFA ক্যাপ্টেন বলেন,
“পুরো মেইন স্ট্রিট দেখে মনে হচ্ছে যেন বোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। স্কুল ধ্বংস হয়েছে, বহু বাড়ি নেই।”
অন্তত ২০টির বেশি ভবন ইতোমধ্যে ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভিক্টোরিয়ার আকাশ আগুনে রাঙা, দাবানলে ঘরবাড়ি ও বনভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ভয়াবহ আবহাওয়ার কারণে ভিক্টোরিয়ার ৭০টি অগ্নিনির্বাপক বিমান উড়তে পারছে না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
নিউ সাউথ ওয়েলস থেকে ২০০-এর বেশি দমকলকর্মী ভিক্টোরিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তবে শক্তিশালী বাতাসে আগুন সীমান্ত পেরিয়ে NSW-এ ঢুকে পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
নাটিমুক এলাকায় নতুন করে তৃতীয় জরুরি স্তরের দাবানল ঘোষণা করা হয়েছে। নাটিমুক, আরাপাইলস ও গ্রাস ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যেতে বলা হয়েছে।
ভিক্টোরিয়া এখন ২০১৯–২০ সালের ব্ল্যাক সামার-এর পর সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানল সংকটের মুখে। পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে।
Source: news.com.au, ABC
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au