চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন ১০ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠাতে চায় ওয়াশিংটন। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ যেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বেশি পণ্য আমদানি করে এবং দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমায়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় তুলছে মার্কিন প্রশাসন।
কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের চলমান পাঁচ দিনের ওয়াশিংটন সফরে এই দুটি বিষয়ই প্রধান আলোচ্য হিসেবে থাকছে। গত বুধবার তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছান। সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট অ্যালিসন হুকারের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
ওয়াশিংটনের একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোরে শুরুতে ওই বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সফরকালে খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চেরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
এ ছাড়া শুক্রবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। ক্রিস্টেনসেনের আগামী ১২ জানুয়ারি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ওয়াশিংটনে কর্মরত এক কূটনীতিক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হলো অবৈধ অভিবাসীদের দ্রুত নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং বাণিজ্য ঘাটতি কমানো। মার্কিন সরকারের হিসাব অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রায় ৩০০ বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরত পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৩০০ বাংলাদেশি প্রত্যাবাসনের জন্য উপযুক্ত বলে বিবেচিত। এ ছাড়া আনুমানিক চার হাজার বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অবস্থায় বসবাস করছেন, যাদের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন।
একটি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৮ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে ২ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
২০২৫ সালে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, তুলা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানি বাড়িয়েছে। তবে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা কিছু বাংলাদেশি পণ্যের ক্ষেত্রে উচ্চ শুল্ক পরিশোধ করতে হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্র জানায়, কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর বিষয়েও আলোচনা চলছে এবং এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ভিসা বন্ড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। এর আগে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ভিসা সীমিত করেছিল।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসন তুলনামূলকভাবে মানবাধিকার বা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যুর চেয়ে অবৈধ অভিবাসন দমন ও বাণিজ্য সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান জানতে চাইলে সেখানে অবস্থানরত এক বাংলাদেশি কূটনীতিক বলেন, বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোনো অগ্রাধিকার নয়। তবে তারা সামগ্রিকভাবে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রত্যাশা করে।
সুত্রঃডেইলি স্টার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au