ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়ে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ৬ জুন- ইউরোপের মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ইউরোপের কোনো দলের বিপক্ষে জয় পেয়েছে…
মেলবোর্ন, ১৪ জানুয়ারি- রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন পশ্চিম রাজাবাজার এলাকা থেকে মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ নামের এক জামায়াত নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত হোমিও চিকিৎসক ছিলেন। তিনি শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানার জামায়াতে ইসলামীর রুকন এবং পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা পশ্চিম রাজাবাজারে আনোয়ার উল্লাহর বাসার জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। ওই সময় তিনি ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। দুর্বৃত্তরা দুজনের হাত-পা ও মুখ বেঁধে ফেলে এবং আনোয়ার উল্লাহর মুখে কাপড় গুঁজে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে বাসায় থাকা নগদ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং আট ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় তারা। মঙ্গলবার সকালে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি শুধু চুরির ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইমাউল হক জানান, রাতের কোনো এক সময় একদল দুর্বৃত্ত ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। তখন আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিলেন। তাদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে দুর্বৃত্তরা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আনোয়ার উল্লাহ মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার বলেন, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন শেরেবাংলা নগর দক্ষিণ থানার পশ্চিম রাজাবাজার ওয়ার্ড জামায়াতের সহ-সভাপতি ও রুকন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, হোমিও চিকিৎসক ও সমাজসেবক হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকাসহ বহু মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়েছে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে তিনটায় পশ্চিম রাজাবাজার মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ কুমিল্লার লাকসামে তার গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগর উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
এক যৌথ শোকবার্তায় তারা বলেন, মোহাম্মদ আনোয়ার উল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের সম্মুখ সারির একজন কর্মী। তিনি ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে দেশকে ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করার স্বপ্ন দেখতেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সে লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন। তিনি একজন সমাজসেবক ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন। তার নির্মম হত্যাকাণ্ডে সংগঠন একজন নিবেদিতপ্রাণ সহযোদ্ধাকে হারাল।
নেতৃদ্বয় এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক নেতাদের হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা বলেন, দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন ও দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা না হলে মানুষের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au