বজ্রপাতে সাত জেলায় ৯ জনের মৃত্যু
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় একদিনেই সাত জেলায় অন্তত ৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জামালপুর, পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী, রংপুর, শরীয়তপুর…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি:বাংলাদেশের গাজীপুরে ৫৫ বছর বয়সী হিন্দু ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র ঘোষ এক তরুণ কর্মীকে রক্ষা করতে গিয়ে নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন। পুলিশ এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে এবং তদন্ত চলছে। ঘটনাটি দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
লিটন চন্দ্র ঘোষ কে ছিলেন?
নিহত ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র ঘোষ (৫৫) কালীগঞ্জ পৌরসভার চান্দাইয়া এলাকার বাসিন্দা। এলাকায় ‘কালী’ নামে পরিচিত, গাজীপুরের কালীগঞ্জের বরানগর সড়কে অবস্থিত জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান বৈশাখী সুইটমিট অ্যান্ড হোটেল-এর স্বত্বাধিকারী ছিলেন। স্থানীয়দের কাছে তিনি একজন সজ্জন ও দায়িত্বশীল ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। কর্মীদের প্রতি তার ছিল পারিবারিক স্নেহপূর্ণ আচরণ।
শনিবার সকালে তার দোকানে ২৮ বছর বয়সী মাসুম মিয়ার সঙ্গে ১৭ বছর বয়সী কর্মী অনন্ত দাসের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা কাটাকাটি দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
যেভাবে হামলা ঘটে
লিটনের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা ১১টার দিকে মাসুম মিয়া ওই রেস্তোরাঁয় যান। একপর্যায়ে মাসুমের বাবা মোহাম্মদ স্বপন মিয়া (৫৫) ও মা মাজেদা খাতুন (৪৫) ঘটনাস্থলে এসে যোগ দেন। লিটন ঘোষ পরিস্থিতি শান্ত করতে ও কর্মীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, কোদাল দিয়ে তার মাথা ও বুকে আঘাত করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
আসামিরা কারা?
ঘটনার পরপরই পুলিশ মাসুম মিয়া, তার বাবা স্বপন মিয়া ও মা মাজেদা খাতুনকে আটক করে। কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে গুরুতর আঘাতের কারণেই লিটনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কলা নিয়ে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষ?
কিছু স্থানীয় সূত্র জানায়, পাশের বাগান থেকে হারিয়ে যাওয়া এক কাঁদি কলা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। অভিযোগ, মাসুম দোকানে কলা দেখতে পেয়ে কর্মী অনন্ত দাসকে অভিযুক্ত করেন, যা পরে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়। তবে পুলিশ বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন।
সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
লিটন ঘোষের হত্যাকাণ্ড এমন এক সময়ে ঘটল যখন দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ বিরাজ করছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১৫ জন হিন্দু হত্যার শিকার হয়েছেন। বিভিন্ন জেলায় গণপিটুনি, গুলিবর্ষণ ও হামলার ঘটনা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
প্রতিক্রিয়া
লিটন ঘোষের মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিটন চন্দ্র ঘোষের মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। কর্তৃপক্ষের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দেশে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থার পরিবেশ রক্ষা করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au