চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৯ জানুয়ারি- ভবঘুরের ছদ্মবেশে দীর্ঘ সাত মাস ধরে একের পর এক হত্যাকাণ্ড চালিয়ে গেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট (৪০)। বাইরে থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন মনে হলেও বাস্তবে ঠান্ডা মাথায় পরিকল্পনা করে এক বৃদ্ধা, এক নারী, এক কিশোরীসহ মোট ছয়জনকে হত্যা করেছেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন সম্রাট বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত রোববার বিকেলে সাভার থানার সামনে থেকে সম্রাটকে আটক করে পুলিশ। এর আগে শনিবার রাতে সাভার পৌর এলাকার পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে এক কিশোরীসহ দুইজনের পোড়া মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর সম্রাটকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
এই ঘটনায় সাভার থানার উপপরিদর্শক সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে রোববার রাতে একটি মামলা করেন। মামলায় সম্রাটসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই একই পরিত্যক্ত কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত মোট পাঁচটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস অ্যান্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, সম্রাট বাইরে থেকে পাগলের মতো আচরণ করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি পাগল নন। তিনি মানসিক বিকারগ্রস্ত হলেও সচেতনভাবেই হত্যাগুলো করেছেন। এখন পর্যন্ত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রত্যেককে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং এর মধ্যে তিনজনের মরদেহ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়। নিহতদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী সম্রাট প্রথম হত্যাকাণ্ড করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামের এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। এরপর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে দেন। এর প্রায় এক মাস পর, ১১ অক্টোবর, একই স্থানে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার হয়। এই হত্যার দায়ও সম্রাট স্বীকার করেছেন।
পরবর্তী সময়ে ১৯ ডিসেম্বর আবারও ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে এক যুবককে হত্যা করেন তিনি। সর্বশেষ শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর তাদের মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে ফেলা হয়।
সাভার থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে যাদের হত্যা করা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ভবঘুরে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সেখানে আরও এক ভবঘুরে নারীকে দেখা গিয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট জানিয়েছেন, ওই রাতেই তাকেও হত্যার পরিকল্পনা ছিল।
হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশ এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন পোশাক পরতেন এবং অসংলগ্ন কথা বলতেন। এসব কারণে স্থানীয়রা তাকে মানসিক রোগী মনে করতেন। তবে পুলিশ বলছে, এটি ছিল তার ছদ্মবেশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরাফাতুল ইসলাম জানান, রিমান্ড মঞ্জুর হলে সম্রাটকে আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ছয়টি হত্যাকাণ্ড ছাড়াও তিনি আরও কোনো হত্যার সঙ্গে জড়িত কি না এবং এসব ঘটনায় অন্য কেউ সম্পৃক্ত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au