আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২২ জানুয়ারি- আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের বড় একটি অংশ ঋণগ্রস্ত বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির মোট প্রার্থীর ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশের নামে কোনো না কোনো ঋণ বা দায় রয়েছে, যা অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীতে প্রার্থীদের ইশতেহার ও আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণ নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরে টিআইবি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির কমিউনিকেশন ও আউটরিচ বিভাগের পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে। চূড়ান্তভাবে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৮১ জন। এর মধ্যে ২৪৯ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ১৩ শতাংশ। বাকি ১ হাজার ৭৩২ জন দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট প্রার্থীর সাড়ে ২৫ শতাংশের কোনো না কোনো ঋণ বা আর্থিক দায় রয়েছে। এসব প্রার্থীর ঘোষিত মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ হাজার ৮৬৮ দশমিক ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকঋণের পরিমাণই ১৭ হাজার ৪৭১ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।
টিআইবি জানায়, সর্বশেষ পাঁচটি সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার তুলনামূলক কম হলেও মোট ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। অর্থাৎ কমসংখ্যক প্রার্থীর হাতেই কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিপুল অঙ্কের ঋণ।
দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণগ্রস্ত প্রার্থীর হার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৩২ দশমিক ৭৯ শতাংশ ঋণগ্রস্ত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় পার্টি, যাদের ২৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ প্রার্থীর নামে ঋণ বা দায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এবারের নির্বাচনে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মোট প্রার্থীর ৩৬ শতাংশের বেশি ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলের, যা গত পাঁচটি নির্বাচনের মধ্যে সর্বোচ্চ হার।
নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণের চিত্রও তুলে ধরে টিআইবি জানায়, আগের নির্বাচনের মতো এবারও নারী প্রার্থীদের অংশগ্রহণ ৫ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারেনি।
পেশাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট প্রার্থীর ৪৮ শতাংশের বেশি ব্যবসায়ী। আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত প্রার্থী রয়েছেন ১২ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং শিক্ষক পেশার প্রার্থী ১১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। মাত্র ১ দশমিক ৫৬ শতাংশ প্রার্থী রাজনীতিকে নিজেদের প্রধান পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণে টিআইবি জানায়, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্যের ভিত্তিতে এবারের নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীর সংখ্যা ৮৯১ জন। এ ছাড়া মোট সম্পদের হিসাবে ২৭ জন প্রার্থী শতকোটিপতি।
আইনি জটিলতার দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। বর্তমানে ৫৩০ জন প্রার্থীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ২২ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অতীতে মামলার ইতিহাস রয়েছে ৭৪০ জন প্রার্থীর, যা মোট প্রার্থীর ৩১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, সব দলের প্রার্থীদের ঘোষিত মোট ব্যয় ৪৬৩ দশমিক ৭ কোটি টাকা। এতে গড়ে প্রতিজন প্রার্থীর ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ২২ লাখ টাকা। দলভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি ব্যয় দেখিয়েছে বিএনপি, মোট ১১৯ দশমিক ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, যাদের ঘোষিত ব্যয় ৮০ দশমিক ৬ কোটি টাকা।
টিআইবি আরও জানায়, ২৫৯ জন প্রার্থীর ক্ষেত্রে তাদের তুলনায় স্বামী, স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ বেশি। একইভাবে ১১৮ জন প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী, স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে বেশি দালান বা ফ্ল্যাট রয়েছে এবং ১৬৪ জন প্রার্থীর তুলনায় তাদের স্বামী, স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের জমির পরিমাণ বেশি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au