যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরছে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ
মেলবোর্ন, ৩০ এপ্রিল- প্রায় ১০ দিন নিখোঁজ থাকার পর যুক্তরাষ্ট্রে নিহত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন-এর মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ…
মেলবোর্ন, ২৪ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দীর্ঘদিনের স্থগিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি আলোচনায় নতুন গতি এসেছে। দুই দশকের জটিল আলোচনার পর এই চুক্তিকে উভয় পক্ষই ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ হিসেবে দেখছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্য ও ভূরাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।
ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আগামী সোমবার দিল্লিতে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও লুইস সান্তোস দা কস্তা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েনের উপস্থিতিকে কেবল আনুষ্ঠানিক সফর হিসেবে দেখছে না কূটনৈতিক মহল। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি এই সফরের মূল লক্ষ্য এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া।
ইউরোপের জন্য সময়টি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মতবিরোধের জেরে ইউরোপীয় মিত্রদের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ জোরদারের হুমকি দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। যদিও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি, তবে শুল্ক অনিশ্চয়তা ইউরোপকে নতুন ও নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার খুঁজতে বাধ্য করেছে।
ভারতের ক্ষেত্রেও প্রেক্ষাপট আলাদা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৫০ শতাংশ শুল্ক নিয়ে অচলাবস্থা কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় নেতৃত্বকে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রধান অতিথি করে দিল্লি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বহুমুখী করতে আগ্রহী। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা চ্যাথাম হাউসের শীতেজ বাজপেয়ীর মতে, এটি ভারতের বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন, যেখানে কোনো একক শক্তির ওপর নির্ভরতা নেই।

জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে এ বছরই জাপানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে ভারত।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৭ জানুয়ারি শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে চুক্তি ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। ফন ডার লিয়েন এবং ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল ইতোমধ্যে একে ‘সবচেয়ে বড় চুক্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। চুক্তিটি কার্যকর হলে এটি হবে চার বছরের মধ্যে ভারতের নবম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের জন্য সাম্প্রতিক মেরকোসুর চুক্তির ধারাবাহিকতা।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের দ্রুত বাড়তে থাকা অর্থনৈতিক শক্তি ইউরোপের জন্য বড় আকর্ষণ। ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি এবং চলতি বছরেই জিডিপি ৪ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে জাপানকে পেছনে ফেলতে পারে। দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ফন ডার লিয়েন বলেছেন, ভারত ও ইইউ একসঙ্গে হলে দুই বিলিয়ন মানুষের বাজার তৈরি হবে, যা বৈশ্বিক জিডিপির এক-চতুর্থাংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের জন্য ইইউর বাজারে শুল্ক সুবিধা পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হবে। পোশাক, ওষুধ, ইস্পাত ও যন্ত্রপাতির মতো খাতে রপ্তানি বাড়ার আশা করছে দিল্লি। তবে কৃষি, দুগ্ধজাত পণ্য এবং কিছু সংবেদনশীল খাত ধাপে ধাপে বা আলোচনার বাইরে রাখার ইঙ্গিত রয়েছে।
তবুও সব বাধা কাটেনি। মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, তথ্য নিরাপত্তা এবং ইউরোপের নতুন কার্বন কর ব্যবস্থাকে ঘিরে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্বেগগুলো কীভাবে সমাধান করা হয়, তার ওপরই নির্ভর করবে চুক্তিটি সত্যিকারের প্রবৃদ্ধি সহায়ক অংশীদারত্বে রূপ নেবে কি না।
দীর্ঘমেয়াদে অবশ্য উভয় পক্ষই লাভবান হবে বলে ধারণা বিশ্লেষকদের। যুক্তরাষ্ট্রের অনিশ্চিত শুল্ক নীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে ভারত ও ইউরোপের এই ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যৎ বাণিজ্য মানচিত্রে নতুন দিক নির্দেশ করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au