‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২৬ জানুয়ারি- ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের মতে, ওই বক্তব্য বাংলাদেশের সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভণ্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়ার শামিল, যা সরাসরি দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।
রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ওই বক্তব্যে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে তাঁর দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার জন্য স্পষ্ট উসকানি দেন। বিষয়টি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে বিস্মিত ও হতবাক করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো সত্ত্বেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বিষয়ে ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এর বিপরীতে ভারতের ভূখণ্ডে দাঁড়িয়ে তাঁকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ করেছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ঘটনা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধির পথকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে ‘গণহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালার পরিপন্থী। এর মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণ বজায় রাখার নীতি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননার শামিল।
বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এর ফলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণভিত্তিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও তা এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বক্তব্যকে নির্লজ্জভাবে উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, এই বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় এই দলকেই নিতে হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
সবশেষে বিবৃতিতে জানানো হয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, ষড়যন্ত্র ও অস্থিতিশীলতার চেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, জনগণের নিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলেও বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au