আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ২৯ জানুয়ারি- অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রদায়িকতার সংজ্ঞা নিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ নেতারা তাদের এই অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস যেভাবে সাম্প্রদায়িকতার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা বিভ্রান্তিকর ও বাস্তবতাবিবর্জিত।
তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, নতুন এই সংজ্ঞা অনুযায়ী কি কেবল মন্দির বা উপাসনালয়ের আঙিনায় সংঘটিত সহিংসতাই সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে বিবেচিত হবে, আর সমাজ ও রাষ্ট্রের অন্যান্য পরিসরে ঘটে যাওয়া হামলা, নির্যাতন ও বৈষম্য সাম্প্রদায়িকতার আওতার বাইরে থাকবে?
সংগঠনের নেতারা এ ধরনের সংজ্ঞাকে ‘উদ্ভট’ আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত এক বছরে দেশে অন্তত ৫২২টি সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু জানুয়ারি মাসেই ৪২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ঘটনায় ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসীরা শুধু ক্ষুব্ধই নয়, বরং নিজ দেশেই তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করে ঐক্য পরিষদ।
সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেন, এই ধারাবাহিক সহিংসতার প্রেক্ষাপটে সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন কিংবা রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আস্থা ও আশার সঞ্চার করার মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। ফলে রাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা ক্রমেই ক্ষয়ে যাচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলন থেকে একাধিক দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা, ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা এবং নির্বাচনকালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা পর্যবেক্ষণে একটি বিশেষ মনিটরিং সেল গঠন।
এছাড়া সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় এলাকায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানানো হয়। ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য, উসকানিমূলক প্রচার বা গুজব ছড়ানোর ঘটনায় কঠোর শাস্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রার্থিতা বাতিলেরও আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানিয়ে ঐক্য পরিষদের নেতারা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে অধিকতর ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তাদের মতে, এসব পদক্ষেপ ছাড়া একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au