মেলবোর্ন ২ ফেব্রুয়ারি- বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে এবার এক ব্যতিক্রমী মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিশ্ব। ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে আধ্যাত্মিক জগতের আইকন, তিব্বতি ধর্মগুরু চতুর্দশ দলাই লামা সম্মানিত হলেন ‘সেরা অডিও বুক, ন্যারেশন অ্যান্ড স্টোরিটেলিং রেকর্ডিং’ বিভাগে। নবতিপর এই ধর্মগুরুর ঝুলিতে যুক্ত হল আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির আরেকটি উল্লেখযোগ্য পালক।
পুরস্কারপ্রাপ্ত কাজটির নাম ‘মেডিটেশন: দ্য রিফ্লেকশনস অফ হিজ হোলিনেস দ্য দলাই লামা’। শান্তি, দয়া, মানবিকতা ও আত্মচিন্তার বার্তাকে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সঙ্গে মিশিয়ে তৈরি এই অডিও প্রজেক্ট বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের মন ছুঁয়েছে। তবে বয়সজনিত কারণে গ্র্যামির মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেননি দলাই লামা। তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন সংগীতশিল্পী রুফাস ওয়েনরাইট, যিনি এই প্রকল্পে তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
এই বিভাগে প্রতিযোগিতা ছিল বেশ কঠিন। মনোনীতদের তালিকায় ছিলেন জনপ্রিয় টিভি সঞ্চালক ট্রেভর নোয়া, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি কেটানজি ব্রাউন জ্যাকসন এবং মিলি ভানিলির সদস্য ফ্যাব মরভ্যানের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের সবাইকে পিছনে ফেলে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন দলাই লামা, যা তাঁর বক্তব্য ও দর্শনের বৈশ্বিক প্রভাবেরই প্রমাণ।
পুরস্কার গ্রহণের পর রুফাস ওয়েনরাইট বলেন, “দলাই লামার সঙ্গে দয়া, মমতা ও আত্মবিশ্লেষণের বার্তাভিত্তিক এই কাজে যুক্ত থাকতে পেরে আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে।”
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৫৯ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে তিব্বত ছাড়তে বাধ্য হন তেনজিন গিয়াতসো, যিনি পরে বিশ্বজুড়ে পরিচিত হন দলাই লামা নামে। দুর্গম পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর থেকেই এই দেশ তাঁর দ্বিতীয় ঘর হয়ে উঠেছে। তাঁকে ঘিরে ভারত ও চিনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন আজও অব্যাহত। বেজিং তাঁকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে দাবি করলেও, ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আস্থার কথা বারবার প্রকাশ করেছেন দলাই লামা।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভারত তাঁর পাশে রয়েছে, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ সত্ত্বেও। ফলে দলাই লামা ও ভারতের সম্পর্ক আজ শুধু আশ্রয়ের নয়, বরং পারস্পরিক বিশ্বাস ও ঐতিহাসিক বন্ধনের প্রতীক। গ্র্যামির মঞ্চে তাঁর এই সম্মান সেই দীর্ঘ যাত্রারই আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।