বাংলাদেশ

কুড়িগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১শ ৩৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল

  • 7:24 pm - February 02, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৮৫৮ বার
কুড়িগ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১শ ৩৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল। ছবিঃ ওটিএন বাংলা

মেলবোর্ন, ২ ফেব্রুয়ারি- কুড়িগ্রামের উলিপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক পরিবারের ১শ ৩৫ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উলিপুর উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের ভারতপাড়া এলাকায়। জমির মালিক পরিবার উলিপুর থানা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন, তবে এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও প্রশাসন এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, হোকডাঙা ভারতপাড়া এলাকার মোনমহন রায় (৬৫) ও তার পরিবার ক্রয় ও পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১শ ৩৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছিল। গত ২৫ জানুয়ারি সকালে প্রতিবেশি খাইজর আলী (৫৫) ও আবু কালাম (৪৫) ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে বোরো ধানের চারা রোপণ করেন।

জমির মালিক মোনমহন রায় অভিযোগ করেন, “আমরা বাঁধা দিতে গেলে খাইজর আলী ও তার দল ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আমাদের তাড়িয়ে দেন। এতে আমাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে।” তিনি জানান, জমির ২৯ শতক অংশ বর্গা দিতে স্ট্যাম্পে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, খাইজর আলী ও আবু কালাম পরে স্ট্যাম্প জালিয়াতি করে জমিটি বন্দক বাবদ দেড় লাখ টাকা গ্রহণ করেছেন।

ভুক্তভোগী মোনমহন রায় আরও বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের নামীয় জমিতে চাষাবাদ করে আসছি। কোনো কারণ ছাড়াই প্রতিবেশিরা আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করেছে। থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি, তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।”

থেতরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আনিছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “জোরপূর্বক জমি দখল করা সম্পূর্ণ অন্যায়। প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া এর সুষ্ঠ সমাধান সম্ভব নয়।”

পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আক্তারুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু জটিলতা রয়েছে। আশা করি দ্রুত সমাধান হবে।” উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ ইবনে সিদ্দিক জানান, এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। তবে পরিবার থানায় এলে তাদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে।

অভিযুক্ত খাইজর আলী ১শ ৩৫ শতক জমি দখল করার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমরা হয়রানির কারণে জমি দখল করেছি।”

স্থানীয়দের মধ্যে এই ঘটনার পর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা এবং তাদের সম্পত্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।

এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের পরিবারগুলো বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের জমি ব্যবহার করে আসছে, কিন্তু হঠাৎ করেই জোরপূর্বক জমি দখল করা হলে তারা আতঙ্কিত ও নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন। তারা আশা করছেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে দখলকৃত জমি তাদের কাছে ফিরিয়ে দেবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে।

এই শাখার আরও খবর

কিম জং উনের স্বাস্থ্য নিয়ে গুঞ্জন, কী জানা যাচ্ছে?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জল্পনা ছড়িয়েছে। সম্প্রতি তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে কোমায় আছেন বলে কিছু…

ফ্রান্সজুড়ে চলছে দাঙ্গা-লুটপাট, প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে…

নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১৪, আহত ৩২

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়ায় বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। আহতদের স্থানীয় বিভিন্ন…

পূজা দেখে ফেরার পথে ট্রলারডুবি, মেয়ে নিহত মা নিখোঁজ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  পিরোজপুরে দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ট্রলারডুবিতে প্রাণ গেছে আট বছরের শিশু অর্পিতা বেপারীর। এ ঘটনায় তার মা রিনা…

রেমিট্যান্স নেবে সরকার, প্রবাসীদের মরদেহের দায় কেন নেবে না?

সৌদি আরবে দুই চ নাগরিক নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সিথি আখতারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা, প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে…

ছেলেকে নায়ক বানাতে বাড়ি-গাড়ি বন্ধক রেখেছিলেন হৃতিকের বাবা

হৃতিক রোশন এখন বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা। তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে তার পরিবারের এই অবস্থানে আসার পথটি সহজ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au