বিশ্ব

এপস্টেইন কাণ্ডে বিস্ফোরক নথি: প্রভাবশালীদের কাছে ভুক্তভোগীদের পাচারের অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ এফবিআই

সর্বশেষ প্রকাশিত অভ্যন্তরীণ নথিতে বলা হয়েছে, নাবালিকা মেয়েদের যৌন নিপীড়নের প্রমাণ মিললেও ‘প্রভাবশালী পুরুষদের জন্য’ পাচারচক্র পরিচালনার অভিযোগে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থাগুলো

  • 7:15 pm - February 09, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৫৩ বার
বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। সুপার বোল উপলক্ষে প্রকাশিত বিজ্ঞাপনে অংশ নেওয়া তিনজন ভুক্তভোগী; পরিচয় গোপন রাখতে তাদের মুখ ঝাপসা করে দেখানো হয়েছে। ছবি: Davidoff Studios/Getty

মেলবোর্ন, ৯ ফেব্রুয়ারি: জেফ্রি এপস্টেইন কাণ্ড ঘিরে প্রকাশিত সর্বশেষ নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ভুক্তভোগীদের সেই দাবি প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে যে, এপস্টেইন নাবালিকা মেয়েদের প্রভাবশালী পুরুষদের কাছে পাচার করতেন। অভ্যন্তরীণ নথি পর্যালোচনা করে সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

নথিতে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা এপস্টেইনের মাধ্যমে নাবালিকা মেয়েদের যৌন নিপীড়নের ব্যাপক প্রমাণ পেলেও, তিনি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্য কোনো সংগঠিত যৌন পাচারচক্র পরিচালনা করতেন—এমন দাবির পক্ষে সীমিত প্রমাণই পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালের এক প্রসিকিউটরের স্মারকে উল্লেখ করা হয়, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও ভার্জিন আইল্যান্ডসে এপস্টেইনের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ভিডিও ও ছবিতে অন্য কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা বা ভুক্তভোগীদের ওপর নির্যাতনের দৃশ্য পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালের আরেকটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে বলা হয়, এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেন—যার মধ্যে একাডেমিয়া, অর্থনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতির প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানে অর্থপ্রদানের তথ্য রয়েছে—এসবের সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।

গত বছরের জুলাইয়ে ফেডারেল তদন্তকারীরা ইমেইলে জানান, এপস্টেইন ও তাঁর সহযোগী ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েল ছাড়া অন্য কাউকে অভিযুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই—যদিও ‘চার বা পাঁচ’ জন ভুক্তভোগী দাবি করেছিলেন, অন্য ব্যক্তিরাও তাদের নির্যাতন করেছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে প্রথমবার ভুক্তভোগীদের একজনের অভিযোগে এপস্টেইনের নাম কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তবে এক দশক পর গিয়ে, ২০০৮ সালে, নাবালিকার কাছ থেকে দেহব্যবসায় প্ররোচনার অভিযোগসহ কয়েকটি রাজ্য আইনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন তিনি। সে সময়ের প্লি চুক্তি ছিল ব্যাপক সমালোচিত ও শিথিল।

নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেসের যৌন অপরাধী নিবন্ধনের জন্য তোলা ২০১৭ সালের ২৮ মার্চের ছবিতে মার্কিন অর্থপতি জেফ্রি এপস্টেইন। ছবি: নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব ক্রিমিনাল জাস্টিস সার্ভিসেস/হ্যান্ডআউট via REUTERS (তৃতীয় পক্ষের সরবরাহকৃত ছবি)। CC BY

সাম্প্রতিকভাবে প্রকাশিত হাজার হাজার ব্যক্তিগত ইমেইলসহ নথিপত্রে দেখা যায়, ১৮ মাসের কারাদণ্ড ভোগের সময় এবং মুক্তির পরও বহু প্রভাবশালী ব্যক্তি এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। ২০১৯ সালে এপস্টেইনের পুনরায় গ্রেপ্তার ও কারাগারে মৃত্যুর পর ম্যাক্সওয়েল একাধিক যৌন পাচার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হন এবং বর্তমানে ২০ বছরের সাজা ভোগ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দ্বিদলীয় সমর্থনে গত ডিসেম্বর একটি আইন পাস হয়, যার আওতায় বিচার বিভাগকে এপস্টেইন-সংক্রান্ত সব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, এ সংক্রান্ত পর্যালোচনা শেষ হয়েছে এবং প্রায় ৩৫ লাখ নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও মোট নথির সংখ্যা প্রায় ৬০ লাখ বলে জানা যায়। আইনটির প্রণেতা রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান থমাস ম্যাসি ও ডেমোক্র্যাট রো খন্না দাবি করেছেন, সরকার এখনো পুরোপুরি আইন মানেনি।

এদিকে, সুপার বোল উপলক্ষে প্রকাশিত এক বিজ্ঞাপনে এপস্টেইনের কয়েকজন ভুক্তভোগী মুখ ঝাপসা করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ‘সত্য প্রকাশের সময় হয়েছে’ বলে দাবি করেন। বিজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৯ নভেম্বর ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ আইনে পরিণত হলেও এখনো প্রায় ৩০ লাখ নথি প্রকাশ হয়নি। তারা অ্যাটর্নি জেনারেল প্যাম বন্ডিকে উদ্দেশ করে দ্রুত সব নথি প্রকাশের আহ্বান জানান।

সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, ভুক্তভোগীদের ন্যায্যতা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ন্যায্য হলেও প্রমাণ তৈরি করে মামলা সাজানো সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, “আমাদের কাছে লুকানোর কিছু নেই।”

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সময় অনুযায়ী সোমবার কংগ্রেসের এক কমিটি শুনানিতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে ঘিসলেন ম্যাক্সওয়েলকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে। তবে তাঁর আইনজীবীরা আদালতে দণ্ড বাতিলের আবেদন বিচারাধীন থাকায় সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করা যাবে না বলে আপত্তি তুলেছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি ম্যাস এই অবস্থানকে ‘আত্মরক্ষা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, শক্তিশালী ব্যক্তিদের নাম প্রকাশের অধিকার আমেরিকান জনগণের রয়েছে।

কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট রো খন্না ম্যাক্সওয়েলকে জিজ্ঞাসার জন্য প্রশ্নপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাঁর আইনজীবীদের সাম্প্রতিক দাবির প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়—এপস্টেইনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ‘২৫ জন পুরুষ’ গোপন সমঝোতার মাধ্যমে বিচার এড়িয়ে গেছেন। খন্না জানতে চান, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি—সে বিষয়ে ম্যাক্সওয়েলের কাছে কী তথ্য বা প্রমাণ আছে।

কংগ্রেসীয় কমিটি এপস্টেইনের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও ত্রুটিও তদন্ত করছে।

এই শাখার আরও খবর

মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…

মুম্বাইয়ে সালমানের সঙ্গে নয়নতারার মিশন শুরু

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- বলিউডে নতুন চমক নিয়ে হাজির হচ্ছেন দুই ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির জনপ্রিয় তারকা-সালমান খান ও দক্ষিণ ভারতের ‘লেডি সুপারস্টার’ নয়নতারা। মুম্বাইয়ে শুরু হয়েছে তাদের…

শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল-  রাজধানীতে আলোচিত ঘটনার পর দেড় মাসের শিশুসহ কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম অবশেষে জামিন পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত…

ট্রাইব্যুনালে ঘুষকাণ্ডে প্রসিকিউটর সাইমুমের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সদ্য সাবেক প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে আলোচিত ঘুষকাণ্ডে প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি হত্যা মামলা…

ইরান কেন বাংলাদেশি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল-  মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে ইরান, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জাহাজ চলাচলে। ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের…

মাথাপিছু জিডিপিতে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ: আইএমএফ

মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি বছরে মাথাপিছু জিডিপির হিসাবে ভারতের তুলনায় এগিয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। যদিও সামগ্রিক অর্থনীতির আকারে ভারত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au