বাংলাদেশ

ভোটে না গেলে ‘আক্রান্ত’ হওয়ার শঙ্কা: তৃণমূলে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগ

  • 10:18 pm - February 11, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২২০ বার
বিভিন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটের হার, ছবিঃ বিবিসি

মেলবোর্ন, ১১ ফেব্রুয়ারি- কার্যক্রম নেতৃত্বে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা আওয়ামী লীগকে ঘিরে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভোট বর্জনের ডাক দিলেও তৃণমূলের সাধারণ সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধা, শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।

সম্প্রতি কারাগারে আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুর পর ঠাকুরগাঁওয়ে তাঁর বাসভবনে সমবেদনা জানাতে যান বিএনপির মহাসচিব ও সদর আসনের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংককে টার্গেট করেই এই কৌশলগত তৎপরতা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ৭৩ শতাংশ ভোট পেলেও ১৯৭৯ সালে তা নেমে আসে ২৪ শতাংশে। পরবর্তী সময়ে দলটির ভোটের হার ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০০৮ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছায়। তবে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলটির প্রকৃত জনসমর্থন কতটা—তা নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

রাজনীতি বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, আওয়ামী লীগের ভোট এখন ২০ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। তবে দলটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় এই সমর্থনের প্রকৃত পরিমাণ যাচাইয়ের সুযোগ নেই।

দলীয়ভাবে ‘নৌকা নেই, ভোটও নেই’ স্লোগানে ভোট বর্জনের প্রচারণা চালানো হলেও তৃণমূল পর্যায়ে চিত্র একরকম নয়। অনেক সাধারণ সমর্থক বলছেন, ভোট দিতে না গেলে ভবিষ্যতে ‘চিহ্নিত’ বা ‘আক্রান্ত’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমর্থক বলেন,
“আমরা যদি ভোট দিতে না যাই, তাহলে আমাদের চিহ্নিত করা হতে পারে। ভয় থেকেই অনেককে ভোটকেন্দ্রে যেতে হতে পারে।”

অন্যদিকে, কিছু তৃণমূল নেতা মনে করছেন, ভোটার উপস্থিতি কমিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করাই এখন কৌশল। তাদের যুক্তি, ভোটের হার কম হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন উঠবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগের ভোটাররা তিনভাবে প্রভাব ফেলতে পারেন—
১. তারা ভোটকেন্দ্রে গেলে অংশগ্রহণের হার বাড়বে।
২. নির্দিষ্ট কোনো দলের দিকে ঝুঁকলেই ফলাফলে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
৩. আর তারা না গেলেও যদি ভোটের হার বেশি হয়, তাহলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হতে পারে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্য অংশ ভোটে অংশ না নেয়, তাহলে বৈধতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন সামনে আসবে। আবার যদি উচ্চ উপস্থিতি দেখা যায়, তাহলে তা অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার পক্ষে জনসমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

বৃহস্পতিবারের নির্বাচন তাই কেবল বিএনপি-জামায়াতের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়; এটি আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভোটার উপস্থিতি, ভোটের হার এবং আওয়ামী সমর্থকদের আচরণ—সব মিলিয়ে এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।

সুত্রঃ বিবিসি

এই শাখার আরও খবর

লংমার্চ থেকে সরকার পতনের হুমকি, জামায়াত-এনসিপির লক্ষ্য কি?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : সরকার গঠনের আট মাস না পেরোতেই রাজপথে সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী দল। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জ্বালানি ও…

পুলিশের সামনে বাসে ওঠার সময় নারীর মোবাইল ছিনতাই, চলন্ত বাস থেকে পড়ে গেলেন স্বামী

ঢাকার কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতেই বাসে ওঠার সময় এক নারীর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছিনতাইকারীর ধাক্কায় চলন্ত বাস থেকে…

ছুটির পর ফ্রান্সে আবারও শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ শুরু

দুই সপ্তাহের ছুটি শেষে ফ্রান্সে আবারও শুরু হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। তবে আগের কয়েক সপ্তাহের তুলনায় এবার আন্দোলনের ব্যাপ্তি অনেকটাই কম। সোমবার রাজধানী প্যারিস,…

মধ্যবর্তী নির্বাচন ভোট গণনায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা করছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে প্রকাশ্য…

মধ্যবর্তী নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ, কয়েক দশকের রীতি ভাঙল ট্রাম্পের বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট এবং নির্বাচনের ফল অনুমোদন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের বিরুদ্ধে। দেশটির বিচার…

মাদ্রাসায় চাকরির এক মাস; দুই শিশুকে ধর্ষণ মামলায় হুজুর গ্রেপ্তার

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে একটি আবাসিক হাফেজিয়া মাদ্রাসায় যোগ দেওয়ার এক মাসের মধ্যে ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুশিক্ষার্থীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au