পুলিশের সামনে বাসে ওঠার সময় নারীর মোবাইল ছিনতাই, চলন্ত বাস থেকে পড়ে গেলেন স্বামী
ঢাকার কারওয়ান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতেই বাসে ওঠার সময় এক নারীর মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ছিনতাইকারীর ধাক্কায় চলন্ত বাস থেকে…
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : সরকার গঠনের আট মাস না পেরোতেই রাজপথে সরব হয়ে উঠেছে বিরোধী দল। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার এবং জ্বালানি ও সার সংকট নিরসনসহ সাত দফা দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে লংমার্চ করছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য।
কর্মসূচি থেকে সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্যের পাশাপাশি দেওয়া হচ্ছে সরকার পতন ও আরেকটি বিপ্লবের হুঁশিয়ারি। প্রশ্ন উঠেছে, এত দ্রুত রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে জামায়াত ও তাদের মিত্ররা কী অর্জন করতে চায়?
গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর এবং সর্বশেষ ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে তৃতীয় লংমার্চ করে ১১ দলীয় ঐক্য। সামনে বরিশাল, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগেও একই কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা রয়েছে।
লংমার্চের বিভিন্ন পথসভায় জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ শরিক দলগুলোর নেতারা সরকারের সমালোচনা করছেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই সনদের দাবি। একই সঙ্গে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করা এবং নতুন বিপ্লবের প্রস্তুতির কথাও বলা হচ্ছে।
সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা
গত ৩০ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলায় বর্তমান সরকার সক্ষম নয়। ফ্যাসিবাদী শক্তি ও দুর্নীতিবাজ সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নামার আহ্বান জানান তিনি।
পরদিন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গণরায় নিয়ে প্রতারণা ও উপহাসের প্রতিবাদে দেশবাসীকে আরেকটি বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তাঁর এমন বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সরকারের আট মাসের মাথায় বিরোধী দলের এমন কঠোর অবস্থানকে কেউ দেখছেন রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে, কেউ বলছেন নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা। তবে এই হুঁশিয়ারি বাস্তব আন্দোলনের প্রস্তুতি, নাকি রাজনৈতিক বক্তব্য—তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বিরোধী দলের শক্তি নিয়ে প্রশ্ন
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্বাফী (রতন) বলেন, সরকারের এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বিরোধী দলের এমন বক্তব্য ফাঁকা আওয়াজ। তাঁর দাবি, বিরোধী দল হিসেবে তারা ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে এবং জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
অন্যদিকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন না করলে সরকার লাইনচ্যুত হতে পারে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে আন্দোলন করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। সরকার সংশোধন না হলে একসময় পরিস্থিতির বিস্ফোরণ ঘটতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মতে, বিরোধী দল নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে কতটা আত্মবিশ্বাসী, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সংসদে ও রাজপথে তাদের বক্তব্যের মধ্যে অসংগতি দেখা যাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, কঠোর বক্তব্যের পেছনে নিজেদের শক্তি, নাকি অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভরতার হিসাব কাজ করছে?
তবে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাঁরা সঠিক পথেই রয়েছেন। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করছেন। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ক্ষমতাসীনদের অবস্থান কী
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, তাঁরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চান না বলেই এখনই কঠোর আন্দোলনে যাচ্ছেন না। তবে সরকার দলীয়করণ, দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রাখলে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই বলেও জানান তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বিরোধী দল স্বাধীনভাবে কর্মসূচি পালন করছে। দল বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে অহেতুক আন্দোলনের মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করলে সাধারণ মানুষই তা প্রতিহত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিরোধী দল ফ্যাসিস্টদের সঙ্গে হাত মেলালে নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বিএনপি কারও কর্মসূচিতে বাধা দিতে চায় না। তবে কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টি করলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au