এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ১৩ ফেব্রুয়ারি- দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। প্রাথমিক ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, আর দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান হচ্ছেন দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা পর্যন্ত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে পাওয়া ফল অনুযায়ী, ২৯৯টি আসনের মধ্যে বিএনপি জয় পেয়েছে ১৮০টিতে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৫৪টি আসন। এনসিপি, গণঅধিকার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে জয়ী হয়েছেন। সরকারি সংস্থার প্রাথমিক হিসাবে বিএনপি দুই শতাধিক আসনে এগিয়ে বা জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে, যা এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫১ আসনের চেয়ে অনেক বেশি।
ভোট গ্রহণ শেষে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ের ভিত্তিতে তারা সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী। ৩০০ আসনের সংসদে দুই শতাধিক আসন পেলে সংবিধান সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথও উন্মুক্ত হয়।
এবারের নির্বাচনের সঙ্গে সমান্তরালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে’ গণভোট। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এতে ‘হ্যাঁ’ ভোট বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, গণভোটে সমর্থন এলে এক কক্ষবিশিষ্ট জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট কাঠামোয় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান। মায়ের মৃত্যুর পর দলীয় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হয় নির্বাচনী প্রচার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম। দলীয় মহাসচিব আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, জয়ী হলে তিনিই হবেন প্রধানমন্ত্রী। ঢাকা-১৭ আসনে তিনি জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে অল্প ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ফলে বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের লড়াই কার্যত একমুখী হয়ে পড়ে। ক্ষমতার শূন্যতায় বিরোধী ভোটের বড় অংশ বিএনপির দিকে একত্রিত হয়। একই সঙ্গে জামায়াতও ইতিহাসের সর্বোচ্চ ভোট ও আসন পেতে যাচ্ছে বলে প্রাথমিক ফল ইঙ্গিত করছে।
তরুণ ভোটারদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় ঐতিহ্যের চেয়ে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও নীতিগত প্রতিশ্রুতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে তরুণ প্রজন্ম। নারী ভোটারের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো, যা মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ।
সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য ছিল। আওয়ামী লীগহীন নির্বাচনে তারা কৌশলগত অবস্থান নিয়েছেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। অনেক ক্ষেত্রে সম্ভাব্য জয়ী বা স্থানীয়ভাবে নিরাপদ বিবেচিত প্রার্থীদের দিকে ঝুঁকেছেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংসদ ও গণভোট মিলিয়ে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬১ শতাংশের বেশি। চূড়ান্ত হিসাবের পর এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কিছু এলাকায় কেন্দ্র দখলের চেষ্টা, জাল ভোট ও বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের অভিযোগ উঠলেও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটেনি। এবারের নির্বাচনে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে ব্যতিক্রম।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫ শতাংশ। ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে তা যথাক্রমে ৭৫ ও ৭৬ শতাংশে পৌঁছায়। ২০০৮ সালে অংশগ্রহণ ছিল ৮৭ শতাংশ। পরবর্তী নির্বাচনগুলোতে উপস্থিতির হার নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এবার তুলনামূলক শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। বিচার, সংস্কার ও অবাধ নির্বাচনের অঙ্গীকার ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। দেড় বছরের প্রস্তুতি শেষে গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয় বহুল প্রত্যাশিত এই নির্বাচন। সাদা ব্যালটে সংসদ নির্বাচন এবং গোলাপি ব্যালটে গণভোটে অংশ নেন ভোটাররা।
প্রাথমিক ফলাফলের এই প্রবণতা ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখন চূড়ান্ত ফল ঘোষণার অপেক্ষা। তবে বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পথ অনেকটাই সুগম।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au