এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ১৬ ফেব্রুয়ারি- সিলেট সদর উপজেলার গুয়াবাড়ি এলাকায় অবস্থিত তারাপুর চা বাগানের শ্রীশ্রী গৌর নিতাই মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রোববার ভোরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে মন্দিরের ভেতরের বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী পুড়ে যায় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ভোরের দিকে কে বা কারা মন্দিরে আগুন দেয়। খবর পেয়ে নগর পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। মন্দিরটিতে কোনো সিসি ক্যামেরা ছিল না। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্দিরের দায়িত্বে থাকা মালা মুদি বলেন, ভোরে হঠাৎ করে মন্দিরে আগুন দেওয়া হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ততক্ষণে মন্দিরের ভেতরের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশের একটি দোকানের লোক প্রথম ধোঁয়া দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, মন্দিরের পর্দা ও বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, আগুনে শ্রীকৃষ্ণ, রাধাকৃষ্ণ, পঞ্চতত্ত্ব, নৃসিংহদেব ও জগন্নাথ প্রভুর ছবি, শ্রীমদ্ভগবদগীতা, পূজার কাপড় ও পর্দাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সামগ্রী পুড়ে যায়। একটি পঞ্চতত্ত্বের ছবি কষ্ট করে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি জানান। এ ঘটনায় কারও সঙ্গে তাদের কোনো বিরোধ বা পূর্ব শত্রুতা ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
তারাপুর চা বাগানের বাসিন্দা রাজন রায় বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে নিয়মিত পূজার কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। হঠাৎ করে এমন ঘটনা ঘটায় তারা হতবাক। কে বা কারা আগুন দিল, তা বুঝতে পারছেন না। এতে বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে তিনি জানান।
বিকালে তারাপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুনীল মুদি বলেন, মন্দিরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মামলা করতে তারা থানায় গেছেন। বাগান কর্তৃপক্ষ ও চা শ্রমিকদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ। বিকালে জেলা কমিটির নেতারা মন্দির পরিদর্শন করেন এবং দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। তারা বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতা না ঘটে, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনকে আরও সতর্ক ও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
মন্দির পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন বাসদ সিলেট জেলার আহ্বায়ক আবু জাফর, সদস্যসচিব প্রণব জ্যোতি পাল, প্রীতম রায়, তারাপুর চা বাগানের সংগঠক বিজয় মোদী, দিলীপ হালদার ও নরেন মোদী।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au